নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উদ্বোধন পর্ব শেষ। এবার জগদ্ধাত্রী পুজোয় প্যান্ডেল হপিং শুরু। এই পুজোয় রঙিন হয়ে উঠেছে অশোকনগর। চারদিকে যেন অন্যরকম অনুভূতি। বুধবার থেকেই বিভিন্ন প্যান্ডেলে ভিড় করেছেন মানুষ। এদিন কোথাও হাল্কা, কোথাও মাঝারি বৃষ্টি হলেও সন্ধ্যার পর ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন দর্শনার্থীরা।
অশোকনগর-কল্যাণগড়ে আছে একাধিক বিগ বাজেটের পুজো। সেই তালিকায় আছে কল্যাণগড়ে দেবীনগর অধিবাসীবৃন্দের জগদ্ধাত্রী পুজো। বয়েসে নবীন হলেও জাঁকজমক এবং মণ্ডপসজ্জায় অন্যদের টেক্কা দিতে তৈরি তারা। চতুর্দশ বর্ষে উদ্যোক্তাদের আকর্ষণ ইন্দোনেশিয়ার বৌদ্ধ মন্দির। এটি আসলে বৌদ্ধ উপাসনা, মনন এবং ধ্যানের স্থান। মন্দিরে ৫০৪টি বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে। মন্দিরের শিল্পকর্মে ভগবান বুদ্ধের জীবন এবং শিক্ষার গল্প রয়েছে। ১৯৯১ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্বে ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। বহু বিদেশি পর্যটক ইন্দোনেশিয়ার বৌদ্ধ মন্দির দেখতে আসেন। সেই শিল্পকলা এবার দেবীনগর অধিবাসীবৃন্দ মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছেন। মাতৃ প্রতিমা এখানে সাবেকিয়ানার। পুজোর উদ্যোক্তা সঞ্জয় রাহা বলেন, পুজোর পাশাপাশি এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষদের নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। থিম দেখেও মানুষ অত্যন্ত তৃপ্তি পাবেন।
এদিকে, রামকৃষ্ণ সেবা সমিতির পুজো এই বছর ৩৩ বছরে পড়ল। অশোকনগরে বিগ বাজেটের পুজোর মধ্যে অন্যতম। এই বছর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে বেঙ্গালুরুর মহীশূর প্যালেসের আদলে। মহীশূরের রাজ পরিবারের বিলাসবহুল বাসভবন। ঐতিহাসিক প্যালেস। বহু পর্যটক সারা বছরই ওই প্রাসাদ দেখতে ছুটে যান। মণ্ডপের উচ্চতা ৮০ ফুট। চওড়া রয়েছে ১১০ ফুট। মণ্ডপ জুড়েই রাজ পরিবারের ইতিহাস ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিমা এখানে সবেকিয়ানার। পুজো কমিটির উদ্যোক্তা বিপ্লব সাহা বলেন, মাইসুরুর রাজপ্রাসাদ দেখার সুযোগ যাঁদের হয়নি, তাঁদের কথা ভেবেই ইতিহাস প্রসিদ্ধ এই দর্শনীয় প্যালেস তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, দর্শনার্থীরা মণ্ডপ দেখে খুব উপভোগ করবেন।
এদিকে কল্যাণগড়ের কয়াডাঙা নবজাগ্রত সংঘও প্রতিবার থিমে নজর কাড়ে। এবার তাদের পুজো ৪৯ বছরের। শিল্পীর কাল্পনিক ভাবনায় গড়ে উঠেছে রাজমহল। লোহার পাত, ফাইবার, কাচ এবং রঙে তৈরি হয়েছে এই রাজমহল। মণ্ডপের উচ্চতা হয়েছে ৭০ ফুটের। চওড়ায় ৮০ ফুট। মাতৃ প্রতিমা এখানে ডাকের সাজের। নিজস্ব চিত্র