লন্ডন: জাভাগল শ্রীনাথের জায়গায় মহম্মদ সিরাজ। সাকলিন মুস্তাকের পরিবর্তে আর এক অফস্পিনার শোয়েব বশির। ভেন্যুটা চিপক নয় লর্ডস। আর সালটাও ১৯৯৯ নয়, ২০২৫!
লন্ডন: জাভাগল শ্রীনাথের জায়গায় মহম্মদ সিরাজ। সাকলিন মুস্তাকের পরিবর্তে আর এক অফস্পিনার শোয়েব বশির। ভেন্যুটা চিপক নয় লর্ডস। আর সালটাও ১৯৯৯ নয়, ২০২৫!
চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচের ধারে সেবার সাকলিনের ডেলিভারি শ্রীনাথের ব্যাটে লেগে ভেঙে দিয়েছিল স্টাম্প। মুহূর্তে চুরমার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের স্বপ্ন। মাত্র ১২ রানের পরাজয়ে মূল্যহীন হয়ে যায় পিঠে চোট নিয়ে শচীন তেন্ডুলকরের লড়াই। সোমবার যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটল টেমসের পাড়ে। লর্ডসে ভরপুর থ্রিলারে শেষ পর্যন্ত তীরে এসে ডুবল তরি। বশিরের অফস্পিনে সিরাজের আলতো ডিফেন্স ড্রপ খেয়ে গড়িয়ে যায় স্টাম্পে। বেল পড়তেই লেখা হল ভারতের ২২ রানে পরাজয়। পাঁচ ম্যাচের অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে ২-১ এগিয়ে গেল বেন স্টোকস বাহিনী। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়ানো রবীন্দ্র জাদেজা তা দেখলেন অসহায়ের মতো। দাম পেল না ১৮১ বলে তাঁর বুক চেতানো ৬১। ভারতের প্রথম ছয় ব্যাটার মিলিতভাবে যত ডেলিভারি সামলেছেন, তার চেয়েও ৫৮টা বল বেশি খেলেছেন বাঁ-হাতি জাড্ডু! এমনকী, বুমরাহ-সিরাজ মিলেও ৮৪ বল কাটিয়ে দেন। অথচ ইনিংসের শুরু থেকেই কেঁদেকঁকিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রথম সারির ব্যাটাররা।
জয়ের জন্য ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে একটা সময় ৮২ রানে সাত উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল ভারত। কিছুক্ষণ পর তা দাঁড়ায় ১১২-৮। সেখান থেকেই শুরু জাদেজার নাছোড়বান্দা লড়াই। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে বুমরাহ ও সিরাজকে সঙ্গে নিয়ে অসীম দৃঢ়তার দৃষ্টান্ত রাখলেন জাড্ডু। প্রায় ছুঁয়েও ফেলেছিলেন লক্ষ্য। কিন্তু কপাল সঙ্গ দিল না। সেজন্যই আপশোস, সিরাজ যদি পা দিয়েও আটকাতে পারতেন বলটা!
সকালে চার উইকেটে ৫৮ নিয়ে শুরু করে ভারত। দরকার ছিল আরও ১৩৫। কিন্তু জোফ্রা আর্চারের অসাধারণ ডেলিভারি কয়েক ওভারের মধ্যেই ছিটকে দেয় ঋষভ পন্থের স্টাম্প। আঙুলের চোটের জন্য অবশ্য কখনওই স্বস্তিতে দেখায়নি তাঁকে। লোকেশ রাহুলও বেশিক্ষণ থাকেননি। দুরন্ত ডেলিভারিতে তাঁকে এলবিডব্লু করেন স্টোকস। সাতে নামা ওয়াশিংটন সুন্দর ফেরেন পরের ওভারেই। গিল ব্রিগেডের পরাজয় তখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা দেখাচ্ছিল।
বুমরা-জাদেজা-সিরাজের দাঁতে দাঁত চাপা লড়াই সেজন্যই জন্ম দিচ্ছে অপ্রিয় প্রশ্নের। টেলএন্ডাররা যদি এমন দায়িত্বপূর্ণ ব্যাট করতে পারেন, তবে যশস্বী জয়সওয়াল, করুণ নায়াররা কী করছেন? কোচ গৌতম গম্ভীরই বা কোন যুক্তিতে রবিবার নৈশপ্রহরী হিসেবে নামালেন আকাশদীপকে? এদিনই বা কেন নীতীশ রেড্ডিকে পিছনে ফেলে প্রমোশন পেলেন সুন্দর? ৫৩ বলের ইনিংসে নীতীশ সাধ্যমতো চেষ্টাও করেন। নবম উইকেটে জাদেজার সঙ্গে বুমরাহর জুটিতে ১৩২ বলে উঠল ৩৫। ততক্ষণে ভারতীয় সমর্থকরা অবিশ্বাস্য জয়ের গন্ধ পাচ্ছেন। কিন্তু সিরাজের বোল্ডে সব শেষ। বশিরদের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার মধ্যেই হাঁটু গেড়ে বসে থাকা বিধ্বস্ত সিরাজকে সান্ত্বনা জানাতে এগিয়ে এলেন রুট। কিন্তু এমন পরাজয়ের সান্ত্বনা যে কিছুতেই হয় না।