নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগে রামকৃষ্ণ সেতুর আয়ু বৃদ্ধির উপায় নিয়ে পরামর্শ দেবেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। সেইজন্য শীঘ্রই যাদবপুরের বিশেষজ্ঞ টিম এসে সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করবে। দ্বারকেশ্বর নদের উপর রামকৃষ্ণ সেতুর অবস্থা বেহাল বলে দাবি বাসিন্দাদের। তাই একাধিকবার পূর্ত দপ্তর সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করেছে। কিন্তু এবার যাদবপুরের বিশেষজ্ঞরা সেতু পরিদর্শন করবেন। এই ব্যাপারে পূর্ত দপ্তরের হুগলির এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপকদের একটি টিম রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করবে। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সেতুর হাল নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমায় অন্যতম পুরনো ব্রিজ রামকৃষ্ণ সেতু। দ্বারকেশ্বর নদের উপর এই সেতুর মাধ্যমে আরামবাগের সঙ্গে বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর জেলার সরাসরি সংযোগ হয়েছে। তাছাড়া পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দারাও এই সেতু ব্যবহার করে অন্য জায়গায় যান। দ্বারকেশ্বর নদের উপর এই সেতু দীর্ঘদিনের প্রাচীন হওয়ায় তার বিভিন্ন জায়গা বেহালও হয়ে পড়েছে। সেইজন্য সম্প্রতি পূর্ত দপ্তরের জেলা ও রাজ্যের ইঞ্জিনিয়াররা কয়েক দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রামকৃষ্ণ সেতু প্রাচীন হওয়ায় দ্বারকেশ্বরের উপর দ্বিতীয় আরেকটি সেতুর দাবিও দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে বাসিন্দাদের। সেইজন্য পূর্ত দপ্তর সম্প্রতি যান চলাচলের উপর একটি সমীক্ষা চালায়। প্রতিদিন গড়ে কত ভারী যান চলাচল করছে সেতুর উপর দিয়ে তা যাচাই করতে সাত দিন ধরে সমীক্ষা হয়। সরাসরি সেতুর ফুটেজ দেখা হয়। তারসঙ্গে খাতায় কলমেও হিসেবও নেওয়া হয়েছে। পূর্ত দপ্তরের দাবি, দ্বিতীয় সেতুর পরিকল্পনা গত কয়েক বছর ধরেই নেওয়া হচ্ছে। তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে ইতিমধ্যে নানা সমীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান রামকৃষ্ণ সেতুর আয়ু কতদিন রয়েছে তা বোঝার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিয়ালয়ের বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চেয়েছে রাজ্য। সেইমতো শীঘ্রই তাদের একটি টিম সেতু পরিদর্শন করবে। প্রয়োজনে তারা কোনও নমুনাও সংগ্রহ করতে পারেন। সরেজমিনে সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে রিপোর্ট এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে পূর্ত দপ্তর।
আরামবাগের বাসিন্দা রূপম ঘোষ, গোঘাটের দিত্য রায় বলেন, নিয়মিত রামকৃষ্ণ সেতু দিয়ে আমরা যাতায়াত করি। অনেক সময় সেতু সংলগ্ন রাস্তায় প্রবল যানজটেও পড়তে হয়। বর্তমান সেতুটির বিভিন্ন অংশ বেহাল হয়েছে। তারসঙ্গে সেতুটি প্রাচীনও। তাই পাশে দ্বিতীয় একটি সেতুরও প্রয়োজন। এই ব্যাপারে প্রশাসন পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়। নিজস্ব চিত্র