Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হকার উচ্ছেদ রুখল যাদবপুর, ফিরল বুলডোজার

যাদবপুর স্টেশনে হকারদের উচ্ছেদ রুখল সাধারণ মানুষের আন্দোলন। বুলডোজার ফিরে গেল, স্থানীয় নেতাদের সমর্থন। বিস্তারিত পড়ুন।

হকার উচ্ছেদ রুখল যাদবপুর, ফিরল বুলডোজার
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দাবি ছিল একটাই, গরিব মানুষের পেটে লাথি মারা যাবে না। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না। সেই দাবিকেই মান্যতা দিল সাধারণ মানুষের প্রবল বিক্ষোভ, জেদ এবং আন্দোলন। এই অভিঘাতেই হার মানল বুলডোজার। এতদিন গরিব হকারদের উচ্ছেদের যে চিত্র বাংলা দেখেছে, তার উলটো চিত্রনাট্য লেখা হল যাদবপুর স্টেশনে। মঙ্গলবার গভীর রাতে।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত দিন দশেক আগে। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি সইবিহীন নোটিস পড়েছিল। বলা হয়েছিল, ১০ দিনের মধ্যে হকারদের সরে যেতে হবে। আতঙ্ক বাড়ছিল। ২ জুন রাতে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেল পুলিশ, কলকাতা পুলিশের ভিড় দেখা যায়। একটা সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীও চলে আসে। ২১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় একটি বুলডোজার। রাত বাড়তেই হকার, স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। অবশেষে, দফায় দফায় আলাপ আলোচনার পর জয়ের মুখ দেখেন হকাররা। সরে যায় বুলডোজার। রাত দেড়টা নাগাদ যাদবপুরের রাস্তায় বিজয় মিছিল করেন হকাররা।
হকারদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন আর এক রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত সহ স্থানীয় সিপিএম নেতত্ব। উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এমএল) লিবারেশন নেতা মানস ঘোষ, তাদের ছাত্র সংগঠন আইসার রাজ্য সম্পাদক ঋতম মাঝিও। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বও হাজির হয়েছিলেন। এর আগে সেদিন সন্ধ্যায় যাদবপুর স্টেশনে মিছিল করেন সৃজনরা। তারপর শুরু হয় রাত পাহারা। ১৯৮৮ সালে আদালতের একটি নির্দেশ পুলিশকে দেখাতে থাকেন সৃজনরা। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। সেই কথাবার্তার নির্যাস কিছুক্ষণ পরপর হকারদের জানাতে থাকেন সৃজন। রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আইনজীবী শামিম আহমেদ। তিনিও নির্দেশের কাগজপত্র নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেন। রাতের দিকে হাজির হন সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। রাত পৌনে একটা নাগাদ স্টেশনের সামনে পিচের ঢিপির উপর উঠে সৃজন ঘোষণা করেন, ‘আধিকারিকদের কথা অনুযায়ী আগামী কিছুদিন এখানে কিছু হবে না। এই অঞ্চলের সাইডিংয়ের মানুষের দাবি ছিল, কথা না বলে ভাঙচুর করা যাবে না। সেই কথা ওঁরা শুনেছেন। আমরা আপাতত জিতেছি। এটা কোনো পার্টির বিষয় নয়। ওঁদেরও কিছু অনুরোধ আছে। সেটা কথা বলে ঠিক করতে হবে। ১৯৮৮ সালের রায়ের কাগজের সঙ্গে আরও কিছু নথি চেয়েছে। আদালত খোলার পর ২১ দিন সময় নিয়েছি। ওঁদের সঙ্গেও আমরা সহযোগিতা করব। আইনগতভাবে চেষ্টা করব, আর যেন এখানে বুলডোজার না আসে। প্ল্যাটফর্মের হকার ও সাইডিংয়ের হকার—সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ একথা বলার পরেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত হকাররা। মধ্যরাতে উত্সবের চেহারা নেয় যাদবপুর। প্রসঙ্গত, যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় রবিবার ওই স্টেশন চত্বরে সভা করে অভয় দিয়েছিলেন, ২ তারিখ আপাতত উচ্ছেদ স্থগিত। এই বিষয়ে এদিন নবান্ন সভাঘরের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কোনো ক্ষেত্রেই হঠাত্ করে অমানবিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। পরিস্থিতি এবং আইনি দিক পর্যালোচনা করে তবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।’
অবশেষে, রাত ১টা ১০ নাগাদ বুলডোজারের চাকা ঘোরে। সুকান্ত সেতু হয়ে বুলডোজার চলে যায়। উড়তে থাকে লাল পতাকা। সৃজনের নেতৃত্বে মিছিল শুরু হয়। সেই মিছিল স্টেশন হয়ে আবার ২১২ বাস স্ট্যান্ডের দিকে আসে। স্লোগান ওঠে, ‘আয় বিজেপি দেখে যা, গরিব লোকের ক্ষমতা’। প্রসঙ্গত, হকার উচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুধবারই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লেখেন রাজস্থানের সিকারের সিপিএম এমপি অমরা রাম।

সম্পর্কিত সংবাদ