সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপে রাসে সাড়ে তিনশোর বেশি দেবদেবীর পুজো হয়ে আসছে। তার মধ্যে অন্যতম দক্ষিণাঞ্চলের বেগুনিয়াপাড়া লেনের জোড়া মকর গঙ্গামাতা পুজো। শহীদ ক্ষুদিরাম সঙ্ঘের এই পুজো ১৯৭২ সালে ছাঁচের মূর্তি দিয়ে শুরু হয়েছিল। এখন নবদ্বীপের রাসের বিশেষ আকর্ষণ এখানকার সুউচ্চ প্রতিমা। এই পুজো এবার ৫৩তম বর্ষে পড়েছে। গঙ্গামাতার পুজোর সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে।
Advertisement
এই পুজোর বিশেষত্ব হল, জোড়া মকরের উপর চতুর্ভূজা দেবী অধিষ্ঠিতা। তাঁর ডানে ব্রহ্মা আর বামে বিষ্ণু। এছাড়া দেবীর সঙ্গে একদিকে ভগীরথ ও জহ্ন মুনি, অপরদিকে মহেশ্বর ও শঙ্খচূড় থাকেন। এই পুজোকে ঘিরে আঁকা, যেমন খুশি সাজো, শ্রুতি নাটক, নৃত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এলাকার কচিকাঁচা থেকে শুরু করে মহিলারাও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতে নেন। সেইসঙ্গে বিচিত্রানুষ্ঠানও আয়োজিত হয়। পুজো কমিটির তরফে প্রতি বছর এলাকার সাফাইকর্মীদের মধ্যে নতুন বস্ত্র দেওয়া হয়। পুজো কমিটির সম্পাদক বাসুদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত বছর দেবীর বিসর্জন দেওয়ার সময় একটু অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। ঘাটে যখন বিসর্জনের সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, সেসময় হঠাৎ প্রতিমা গাড়ি থেকে হুড়মুড়িয়ে ডাঙায় পড়ে যায়। পুজো কমিটির দু’জন সদস্য ওই প্রতিমার নীচে চাপা পড়ে যান। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনার পর আমাদের ফের প্রতিমা গড়ে পুজো করতে হয়। সেই ঘটনার কথা মাথায় রেখে এবার প্রতিমার কাঠামো, রাসের পাটা ও গাড়ি বদল করা হয়েছে। বিগত দিনের থেকে শিক্ষা নিয়ে এবছর পুজো কমিটির সমস্ত সদস্য অনেক সতর্ক রয়েছি।
এই পুজোর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সন্তোষ ধর। সত্তর বছর বয়সি সন্তোষবাবু বলেন, পুজোর সঙ্গে আমি, আমার ছেলে ও নাতি যুক্ত। এই পুজোর সমস্ত আয়োজনে আমরা অংশ নিই। আসলে এই পুজো আমাদের এলাকার সকলের পুজোর রূপ নিয়েছে।
এই পুজোর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সন্তোষ ধর। সত্তর বছর বয়সি সন্তোষবাবু বলেন, পুজোর সঙ্গে আমি, আমার ছেলে ও নাতি যুক্ত। এই পুজোর সমস্ত আয়োজনে আমরা অংশ নিই। আসলে এই পুজো আমাদের এলাকার সকলের পুজোর রূপ নিয়েছে।



