নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দেনার দায়ে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক মদ ব্যবসায়ী। মৃতের নাম দুর্লভ সামন্ত(৫৫)। বাড়ি পাঁশকুড়া থানার বাকলদা গ্রামে। যদিও কর্মসূত্রে ওই থানার দক্ষিণ মেচগ্রামে থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ মেচগ্রামের বাড়ির ভিতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিস। জানা গিয়েছে, দুর্লভবাবুর ছেলে হায়দরাবাদে থাকেন। জুয়ার নেশায় লক্ষ লক্ষ টাকা উড়িয়ে বাবাকে পথে বসিয়ে দেন। প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা দেনা হয়েছিল। মেচগ্রামে দুর্লভবাবুর একটি সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান রয়েছে। দেনার দায়ে সেই দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, অনেকের কাছ থেকে মোটা টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। রাত-দিন পাওনাদাররা বাড়িতে আসছিল। এনিয়ে মানিসকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন দুর্লভবাবু।
Advertisement
সোমবার দুর্লভবাবু তাঁর স্ত্রীকে জোর করে বাপেরবাড়ি পাঠিয়ে দেন। স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন ওই মদ ব্যবসায়ী। এদিন দুপুরে স্ত্রী অর্চনা সামন্ত বাপেরবাড়ি থেকে এসে দেখেন, ভিতর থেকে কোলাপসিবল গেটে তালা ঝোলানো। কয়েকবার স্বামীকে ডাকার পর সাড়াশব্দ না পেয়ে নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে সেই তালা খোলেন। তারপর বাড়ির ভিতর ঢুকে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। ওই দৃশ্য দেখেই তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করেন। খবর পেয়ে পাঁশকুড়া থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ময়না তদন্ত হয়। অচর্নাদেবী বলেন, ছেলে নানাভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা বেহিসাবি খরচ করেছে।



