ভাস্কর গাঙ্গুলি: ‘ভাস্করদা, অস্কার ব্রুজোঁর পোস্ট দেখেছেন?’ শুক্রবার দুপুরে এক পরিচিতের থেকে অস্কারের কীর্তি শুনি। স্প্যানিশ কোচ লাল-হলুদের প্রাক্তনী। তাঁর আমলেই আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল। হঠাৎ কী লিখেছেন তিনি? কৌতূহলবশত মুঠোফোনে নজর রাখতেই মেজাজ খাপ্পা। হাসব না কাঁদব? আমার মত, অস্কারের কথায় কোনো গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই ইস্ট বেঙ্গলের। তাতে ক্লাবেরই ক্ষতি। চলতি মরশুমে দুরন্ত ছন্দে হাবাস ব্রিগেড। ইতিমধ্যেই এসিএল টু’য়ের গ্রুপ পর্বে পা রেখেছে রশিদ, গিলরা। ডুরান্ড কাপ জয়ের পর ফুটবলারদের ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। এমন সময়ে অস্কার ফোকাস নাড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ, সমর্থক-ফুটবলাররা কেউ প্ররোচনায় কান দেবেন না। কলতলার ঝগড়ায় কান না দিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলুক লাল-হলুদ ব্রিগেড।
কে অস্কার? প্রাক্তন কোচ। আইএসএল জিতিয়েছেন। ডাগ-আউটে তিনিই রিংমাস্টার। মাঠে ফুটবলাররাও সমান কৃতিত্বের অধিকারী। শুনেছি, মোটা অঙ্কের বোনাস নিয়েই ক্লাব ছেড়েছেন তিনি। আমাদের প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, ক্লাবের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোচ আসবেন, আবার চলেও যাবেন। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল থাকবে ইস্ট বেঙ্গলেই। আইএসএল জেতার প্রায় চার মাস পর হঠাৎ অস্কার এমন বললেন কেন? নেপথ্যে অন্য সমীকরণ নেই তো? শুনলাম, সমালোচনা একেবারেই নিতে পারেন না তিনি। এত সহজে কোচের মেজাজ হারালে বলতেই হয়, তিনি এখনও পরিণত হননি। একবার নয় বারবার বলতে পারি যে, এখন এসব কথা বলা তাঁর অনুচিত। সৎ সাহস থাকলে কলকাতায় বসেই মুখ খুলতে পারতেন। বদলে অভিযোগের পাহাড় বানিয়ে নিজের সম্মান নষ্ট করছেন। তবে ইস্ট বেঙ্গলের ইমেজ এত ঠুনকো নয়। খেলোয়াড়ি জীবনে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে বহু ইতিহাসের সাক্ষী। ইস্ট বেঙ্গল ড্রেসিং-রুম মন্দিরের মতো পবিত্র। সেখানে কোনও কর্তা পা রাখার সাহস পেতেন না। আসলে ব্যক্তিগত রাগ চরিতার্থ করতেই এই পথ বেছে নিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার এক ক্লাবের কোচ তিনি। অস্কারের যা মানসিকতা, একটা বছর কাটলে হয়। তার আগে ছাঁটাইয়ের খবর পেলে অবাক হব না।