Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘সব শেষ হয়ে গেল, কিছুই রইল না’, আক্ষেপ চিকিৎসক মায়ের

তাঁকে ঘিরে যে সব আশা, স্বপ্ন ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যাবে, দু’দিন আগেও ভাবতে পারেননি ঝুমুরদেবী।

‘সব শেষ হয়ে গেল, কিছুই রইল না’, আক্ষেপ চিকিৎসক মায়ের
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: ‘কী খবর দেব বলতে পারেন— কিছু বলার নেই।’ শিলিগুড়িতে মোবাইলে ধরতেই অপরপ্রান্ত থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলি বললেন ডাঃ ঝুমুর ভাদুড়ি। অনেক আশা নিয়ে একমাত্র সন্তান ডাঃ সায়ন্তনী ভাদুড়িকে ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু নকশালবাড়িতে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এই জুনিয়র ডাক্তারের। তাঁকে ঘিরে যে সব আশা, স্বপ্ন ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যাবে, দু’দিন আগেও ভাবতে পারেননি ঝুমুরদেবী। শোকে বিহ্বল মায়ের একটাই কথা, ‘সব শেষ হয়ে গেল। কিছুই রইল না আমার। ফাঁকা হয়ে গেল মহেশতলার বাড়ি।’

Advertisement


ভয়ংকর শোকে কখনও কখনও কাঁদতেও ভুলে যান অনেকে। মোবাইলে কথা বলার সময় ঝুমুরদেবীর গলায় তেমনই নিস্পৃহ স্বর শোনা গেল। আসলে সন্তান হারানোর শোক তাঁকে পাথর করে দিয়েছে। ডাঃ ঝুমুর ভাদুড়ি মহেশতলা মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। থাকেন বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের উপর নুঙ্গি মোড়ে। মেয়েকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ছিল ডাক্তার দম্পতির। তাঁরা চেয়েছিলেন, সায়ন্তনী পরবর্তীকালে মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠুক। বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগেই হাউস স্টাফ ছিলেন। সায়ন্তনীর মা বলেন, ‘গত বছর উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে চান্স পেয়েছিল মেয়ে। আমি আর ওর বাবা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু তা আর স্থায়ী হলো না।’


মহেশতলা পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা সিআইসি সদস্য সুকান্ত বেরা বলেন, ডাক্তার দম্পতির সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। সায়ন্তনীকে ছোট থেকে বড়ো হতে দেখেছি। ম্যাডাম এখানেই থাকেন। গত শনিবারও ডাঃ স্পন্দন ভাদুড়ি বাড়ি এসেছিলেন। রবিবার দুপুরের উড়ানে শিলিগুড়ি পৌঁছনোর পর মেয়ের দুর্ঘটনার খবর পান। সোমবার ভোরেই ঝুমুরদেবী যান শিলিগুড়িতে। খবর পেয়ে ওনাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তালাবন্ধ দেখে ফিরে এসেছি। বিকেলে ঝুমুরদেবীকে ফোন করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তখনই নাকি তাঁরা মেয়ের দাহকাজ সেরে ফিরেছেন। ওই মেয়ে আমাদের ওয়ার্ডের গর্ব ছিল। আমরা ভবিষ্যতের এক চিকিৎসককে অকালে হারালাম। • মৃত সায়ন্তনী ভাদুড়ি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ