Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইট-পাথরের দালান, বহরমপুর ঢাকছে কংক্রিটের জঙ্গলে, সবুজের ঘ্রাণ পেতে ছাদবাগানে মজে শহরবাসী

ইট-পাথরের দালান, বহরমপুর ঢাকছে কংক্রিটের জঙ্গলে, সবুজের ঘ্রাণ পেতে ছাদবাগানে মজে শহরবাসী
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অভিষেক পাল, বহরমপুর: দিন দিন শহরে বাড়ছে ইট-পাথরের দালান। হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। তবুও কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা হুজুগে হোক কিংবা সবুজ ভালোবেসে হোক—নিজেদের বাড়ির ছাদে তৈরি করছেন বাগান। চতুর্দিকে কংক্রিটের জঙ্গলের মাঝে একটুখানি সবুজ-সমারোহ।  
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুরে গত কয়েক বছরে পরপর গড়ে উঠেছে শয়ে শয়ে বহুতল। বাদ নেই লালবাগ, কান্দি ও রঘুনাথগঞ্জ শহরেও। ক্রমেই কমেছে কৃষিজমির পরিমাণ। নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে সবুজ। তবুও  মন্দের ভালো ছাদবাগান। বাড়ির উঠোনের মাটি এখন ঠাঁই পাচ্ছে টবে। সেখানেই অঙ্কুরোদগম হচ্ছে কিছু মানুষের স্বপ্ন-বাগান। 
ছাদবাগান কোনও নতুন ধারণা নয়। সবুজের আশ্রয়ে, সবুজের ঘ্রান নিয়ে মানবসভ্যতা বিকশিত হয়েছে। ফলে, অতি প্রাচীন সভ্যতায়ও ছাদবাগানের ইতিহাস চোখে পড়ে। খ্রিস্টের জন্মেরও পূর্বে মেসোপটেমিয়া ও পারস্যের জুকুরাক পিরামিডের উপর সবুজকে স্থান দেওয়া হয়েছে। উঁচু পাথরের স্থাপত্যের শিখরে বাগান ও ছোট গাছ লাগানোর স্থান নির্ধারণ করার নিদর্শন পাওয়া যায়। এগারো শতকে কায়রো শহরে বহুতল ভবন নির্মাণ হয়। সেই ভবনগুলির ছাদেও বাগান তৈরির প্রচলন ছিল। সেই থেকে চলছে ছাদে শৌখিন বাগানের পরিচর্যা। 
কলকাতা ও শহরতলিতে ছাদবাগান তৈরি করা প্রাচীন রেওয়াজ হলেও জেলার মফস্বল শহরে এখন এই প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতি শীতের মরশুমে বাহারি ফুলের গাছ, পাতাবাহারের গাছ সহ একাধিক ক্যাকটাসও রোপন করা হয় টবে। কেউ কেউ আবার বেগুন, লঙ্কা, ঢেঁড়স, কুমড়ো, লাউ সহ অন্যান্য শীতের সব্জিও চাষ করেন। স্বভাবতই শীতের শুরুতে গাছের কেনাকাটা বেড়েছে। অনেকেই বাড়ির ছাদে মাটি তৈরি করে চারাগাছ তৈরি করে নিচ্ছেন। তবে, অধিকাংশ মানুষ সেই ঝামেলায় না গিয়ে চারাগাছ কিনে লাগিয়ে দিচ্ছেন ছাদ ও ব্যালকনির টবে। 
বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ের গাছ বিক্রেতা নিতাই ঘোষ বলেন, ‘চলতি মাস থেকে ফুল গাছ বিক্রি বেড়েছে। মাসখানেক আগে থেকে চারাগাছ তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম। ছোট চারা গাছ পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকা দামে বিক্রি করছি। কিছু চারা টবে তৈরি করেছি। অনেকেই টব সমেত চারাগাছ কিনছেন।’ পূর্বস্থলী থেকে গাছের চারা নিয়ে এসে বহরমপুর শহরে মাথায় করে ফেরি করেন বলরাম পোদ্দার। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার বর্ধমান থেকে এখানে চলে আসি। এই শহরে মানুষের গাছের প্রতি ভালো ঝোঁক রয়েছে। দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ ছোট চারাগাছ ঝুড়িতে করে পাড়ায় পাড়ায় ফেরি করি। অধিকাংশ দিনই বিকেলের মধ্যে গাছ বিক্রি হয়ে যায়।’ বহরমপুরের বাসিন্দা তথা শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এই শহরের জনসংখ্যা। কমেছে কৃষিজমির পরিমাণ। বেড়েছে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা। অথচ, বাড়ছে না সেই হারে আবাদি জমি। বর্তমান সময়ে আমরা সবুজের স্বাদ পেতে বাড়ির সামনে ছোট্ট ব্যালকনিতে কিংবা ফ্লাট বাড়ির ছাদেই বাগান তৈরি করছি। চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, গাঁদা ফুল গাছ লাগালাম।’ 
বেলডাঙার এক নার্সারি মালিক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘শীতের সময় শৌখিন গাছের বিক্রি বেশি হয়। অনেকে ফুল গাছের পাশাপশি ফলের চারা গাছও কিনছেন। আমরা মাসখানেক আগে থেকে মানুষের চাহিদা বুঝে চারাগাছ তৈরি করি।’
সম্পর্কিত সংবাদ