নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ব্লেড দিয়ে হাতের শিরা ও গলার নলি কেটে বাড়ির ছাদে আত্মঘাতী হলেন আইটিআইয়ের এক পড়ুয়া। বুধবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সাঁকরাইলের মধ্য ঝোড়হাটের সর্দারপাড়ায়। মৃত যুবকের নাম রৌণিক সর্দার (২৪)। কেন ওই পড়ুয়া আত্মঘাতী হলেন, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি পরিবার। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সাঁকরাইল থানার পুলিস।
বাবা, মা, বোন ও ঠাকুমার সঙ্গে থাকতেন রৌণিক। আইটিআইয়ের কোর্স করছিলেন তিনি। বাবা জয়ন্ত সর্দারের তেলেভাজার দোকান রয়েছে। পড়ার ফাঁকে বাবাকে দোকানের কাজে সাহায্য করতেন রৌণিক। এলাকায় শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবেই পরিচিতি ছিল তাঁর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফিরে চুপচাপই ছিলেন তিনি। তবে অস্বাভাবিক কিছু আচরণ চোখে পড়েনি পরিবারের। রাত ১১টা নাগাদ তাঁকে ঘরে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন মা, ঠাকুমা ও বোন। আধঘণ্টা বাদে তাঁরা ছাদে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছেন রৌণিক। তাঁর বাঁ হাতের শিরা ও গলার নলি কাটা। পাশেই পড়ে রয়েছে একটি ধারালো ব্লেড। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ছাদ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরেই মৃতের বাড়িতে যায় সাঁকরাইল থানার পুলিস। ছাদ থেকে ওই ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, ব্লেড দিয়ে হাতের শিরা কাটার পর গলার নলি কাটার চেষ্টা করেছিলেন রৌণিক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘ওই যুবক কেন আত্মঘাতী হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে’। এই মৃত্যুর পিছনে প্রেম কিংবা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের দাবি, রৌণিকের মধ্যে মানসিক অবসাদের কোনও লক্ষণ ছিল না। বাড়িতে কোনও বিষয় নিয়ে অশান্তিও হয়নি। পুত্রশোকে বাকশক্তি হারিয়েছেন মা। শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। গত সপ্তাহে সাঁকরাইলের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ডাইভিং পুলে ডুবে মৃত্যু হয় ভিন রাজ্যের এক পড়ুয়ার। একই এলাকায় দুই পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে হতবাক বাসিন্দারা। রৌণিক সর্দার (ফাইল চিত্র)