নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ফের বড়সড় সাফল্য পুরুলিয়া জেলা পুলিসের। ছিনতাইয়ের মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই অপরাধীকে পাকড়াও করল পুলিস। সোমবার দুপুরে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার অন্তর্গত তুন্তুড়ী-কালিমাটি এলাকায় একজন ব্যাঙ্ক মিত্রের থেকে টাকা পয়সা সহ অন্যান্য সামগ্রী ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিস। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। তাতেই ধরা পড়ে দুষ্কৃতী। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওই ব্যাঙ্ক মিত্র জানান, দুষ্কৃতীরা তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়েছিল।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিযোগকারীর নাম গঙ্গাধর মাহাত। তাঁর বাড়ি সুইসায়। ওই থানারই বিদ্রী গ্রামে তাঁর একটি সিএসপি সেন্টার আছে। অন্যান্য দিনের মতোই সোমবার সুইসার একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক থেকে নগদ ৫৫ হাজার টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন সহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে নিজের সিএসপি সেন্টারে যাচ্ছিলেন গঙ্গাধর। গঙ্গাধর ছিলেন বাইকে। তাঁর অভিযোগ, কালিমাটি মোড় পৌঁছনোর কিছুটা আগেই জঙ্গলের কাছে একটি বাইকে চেপে তিনজন এসে তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। দুষ্কৃতীদের একজন বাইক থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ওই ব্যাঙ্ক মিত্রের কাঁধে থাকা ব্যাগটি ছিনতাই করে জঙ্গলের দিকে চম্পট দেয়। এরপরেই ওই ব্যাঙ্ক মিত্র কালিমাটিতে গিয়ে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে খবর দেন। ওই সিভিক খবর দেয় থানায়। কাছেই ছিল পুলিসের প্যাট্রলিং ভ্যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি এসে পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় সুইসা ফাঁড়ির পুলিসও। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এরপরেই সমস্ত দিক থেকে জঙ্গল ঘিরে ফেলতে থাকে পুলিস, সিভিক ভলান্টিয়ার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ছিনতাই করে জঙ্গলেই গা ঢাকা দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তারা বুঝতে পারে, পুলিস অভিযান শুরু করেছে। দুই দুষ্কৃতী চম্পট দিলেও একজন পালাতে পারেনি। পুলিস তাকে পাকড়াও করে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। বাকি দুষ্কৃতীদেরও শীঘ্রই পাকড়াও করার ব্যাপারে আশাবাদী পুলিস। পুলিস সূত্রের খবর, ধৃতের নাম গৌতম লোহার (২৫)। সে বাঘমুন্ডির বিদ্রী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার মূল চক্রী সে-ই। তার থেকে ছিনতাই যাওয়া প্রায় সমস্ত সামগ্রীই উদ্ধার হয়েছে। জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযান শুরু করি। একক দুষ্কৃতী ধরা পড়েছে। ছিনতাই হওয়া সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।
পুলিস সূত্রের খবর, ব্যাঙ্ক মিত্রের থেকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিল পাওড়াও হওয়া ওই যুবক। দীর্ঘদিন ধরেই সে ওই ব্যাঙ্ক মিত্রের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। ভেবেছিল, ব্যাঙ্ক মিত্রের থেকে ছিনতাই করে অন্তত মাসখানেক নিশ্চিন্তে চলবে। পরিকল্পনা সফলও হয়েছিল! কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই যে পুলিসের হাতে পাকড়াও হতে হবে, তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি ওই অপরাধী। পুলিসের এই তত্পরতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা।