Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইটভাটার আড়ালে মজুত ৩৮১টন কয়লা বা‌জেয়াপ্ত করল ইসিএল

ইটভাটার আড়ালে মজুত ৩৮১টন কয়লা বা‌জেয়াপ্ত করল ইসিএল
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দু’দিন টানা অভিযান চালিয়ে ৩৮১ টন কয়লা বাজেয়াপ্ত করল ইসিএলের নিরাপত্তা বিভাগ ও সিআইএসএফ। একটি ইটভাটা থেকেই উদ্ধার হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ কয়লা। যার কোনও বৈধ চালান ভাটা মালিক দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ ইসিএলের। বুধবার রাতে নির্দিষ্ট ইটভাটার নামে অণ্ডাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ইসিএল। লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি ভাটা থেকে বা‌঩জেয়াপ্ত করা কয়লা ছোড়া ১০ নম্বর পিট কোলিয়ারিতে মজুর করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর প্রকাশ্যে অবৈধ কয়লা কারবারে লাগাম পড়েছে। তাই ইটভাটাগুলিকেই অবৈধ ডিপো হিসেবেই ব্যবহার করা শুরু করেছে কয়লা মাফিয়াদের একাংশ। 
Advertisement
ইসিএলের সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মেজর এস তেওয়ারি বলেন, অভিযানে গিয়ে আমরা বেশ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করি। তারপরেও ইটভাটার ম্যানেজমেন্ট কয়লার কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। আমরা কয়লা বা঩জেয়াপ্ত করেছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 
অণ্ডাল থানার হরিপুর উখরা রাস্তার উপর রয়েছে ইটভাটাটি। বনবহাল গ্রামের কাছে নেহেরু বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের অদূরেই দিনের পর দিন ইটভাটাকে কেন্দ্র করে অবৈধ কয়লা কারবার চলার অভিযোগ ছিল। ইসিএল সেই অভিযোগ পেয়েই সিআইএসএফকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে যায়। তাতেই বিপুল পরিমাণ কয়লা তাদের নজরে আসে। ইটভাটার ভিতরে ঢুকলে বোঝার উপায় নেই এটি ভাটা না কয়লার সাইডিং। পুরো এলাকা ঘিরে দীর্ঘক্ষণ আধিকারিকরা অপেক্ষা করতে থাকেন। ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে সময় দেওয়া হয় এই বিপুল কয়লার বৈধ নথি দেখাতে। কিন্তু তারা কোনও নথি দেখাতে না পারায় কয়লা বাজেয়াপ্ত করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। জেসিবি মেশিন এনে ডাম্পারে করে লোড করে কয়লা নিয়ে যাওয়া হয় ইসিএলের ডিপোতে। ইসিএলের এরিয়া সিকিউরিটি ইনচার্জ যে অভিযোগ করেছেন তাতে উল্লেখ রয়েছে এখানে পাওয়া গিয়েছে ১৯৪ টন পোড়া কয়লা এবং ১৮৭ টন ডাস্ট কয়লা। এলাকা সূত্রে দাবি, বর্তমানে একটন কয়লার দাম চলছে সাড়ে ১০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে এই কয়লার মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। 
এলাকাবাসীর দাবি, এলাকার এক একটি ইটভাটাই এখন অবৈধ ডিপোয় পরিণত নিয়েছে। প্রভাবশালী লোকজনই এলাকায় ইটভাটা খুলেছে। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়লা লোড করছে। অনেকের অভিযোগ, শুধু ইট পোড়ানোর জন্য এত কয়লা লাগে না। ইটভাটাগুলিতে চোরাই কয়লা প্রথমে লোড হচ্ছে। তারপর তা পাচার হচ্ছে। 
বিষয়টি ইসিএলেরও নজরে এসেছে। তারপরই পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি ইটভাটায় কয়লার স্টক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসিএলের নিরাপত্তা বিভাগ। বিভাগের মুখ্য আধিকারিক এস তেওয়ারি বলেন, আমরা পুলিসকে চিঠি দিয়েছি। আমরা চাই পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ইটভাটাগুলিতে জয়েন্ট রেইড করতে। যাতে অবৈধ কয়লা উদ্ধার করা যায়। 
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রীদীপ চক্রবর্তী বলেন, কয়লা মাফিয়া ইটভাটার মালিক। তারা নিজেদের ভাটায় অবৈধ কয়লা ডিপো তৈরি করছে তৃণমূল নেতাদের মদতে।
পশ্চিম বর্ধমানের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ সুজিত মুখোপাধ্যায় বলেন, সিআইএসএফ, ইসিএলের যোগসাজশে ছাড়া কয়লা চুরি অসম্ভব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য পুলিস কয়লা পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান করছে।
সম্পর্কিত সংবাদ