সংবাদদাতা, ইটাহার: ইটাহারের নির্ভয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে পাঁচিল তোলাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা হাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। সোমবার এই ঘটনায় শোরগোল ছড়ায়। পাঁচিল নির্মাণের কাজ শেষ হলে যাতায়াতের সমস্যায় কার্যত স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের। প্রাশাসনকে জানিয়েও স্থায়ী কোনও সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই সোমবার পড়ুয়াদের স্বার্থে ও স্কুলের রাস্তা বন্ধ হওয়া আটকাতে সরব হলেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকরা। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে প্রায় এক ঘন্টা স্কুল বন্ধ রেখে, বাইরে গাছতলায় দাঁড়িয়ে থাকলেন স্কুলের শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। এরপর ফের ব্লক ও পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে স্কুলের পঠনপাঠন শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
বিডিও মৃগাঙ্কশেখর দাস বলেন, রাস্তার জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে এটা কাম্য নয়। আমরা বিষয়টি দেখছি। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলব বিষয়টি সরাসরি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে জানাতে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক থেকে নির্ভয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় দেড়শো মিটার ভিতরে। স্কুলে রয়েছে মোট ১২৬ জন পড়ুয়া ও ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। দীর্ঘ প্রায় ৫৫ বছর থেকে নির্ভয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষকরা স্কুলের সামনের ফাঁকা জায়গা দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু, ওই স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের সামনের ফাঁকা জায়গা কিনে নেন। তিনি সেখানে পাঁচিল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু প্রাচীর নির্মাণ হলে যাতায়াতের জন্য অন্য বাসিন্দার ছেড়ে দেওয়া মাত্র দুই ফুট জায়গা দিয়ে স্কুলে যায়ায়াত করা কার্যত অসম্ভব।
স্কুলের সহকারি শিক্ষক সুদীপ্ত মৈত্র বলেন, আমরা চাই পড়ুয়াদের স্বার্থে ওই বাসিন্দা রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছাড়ুন। প্রশাসন বিষয়টি কড়া ভাবে দেখুক। নাহলে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাবে।
অভিভাবক নাজির হোসেন বলেন, আমরা চাই গ্রামের স্কুলটি যাতে বন্ধ না হয়। স্কুলে যাতায়াতের জন্য ওই ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত জায়গা ছাড়তে হবে। প্রশাসন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুক।
অভিযুক্ত বাসিন্দা হাজিবুর রহমান বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি মত আমার পক্ষে ৪ ফুট জায়গা ছাড়া সম্ভব নয়। • নিজস্ব চিত্র।