সংবাদদাতা, ইটাহার: শারীরিক নির্যাতন করে বধূর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। রবিবার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মৃতদেহ নিয়ে ইটাহারের কালোমাটিয়া এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন বধূর পরিজনেরা। দীর্ঘ ১ ঘণ্টার পর ইটাহার থানার পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তপন থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার মৃতের শ্বশুর সেরাজুল হক। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক।
মৃত বধূর নাম নিলুফা ইয়াসমিন (১৭)। তাঁর বাড়ি ইটাহারের কালোমাটিয়ায়। ১ বছর আগে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থানা এলাকার মান্দাপাড়ার মোবারক হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় নিলুফার। মোবারক পেশায় দিনমজুর। বিয়ের ছয় মাস পরেই পণের দাবিতে বধূর উপর চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিযোগ, মোবারক রোজ নির্যাতন করত স্ত্রীকে। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে রাজি না হওয়ায় বধূর উপর চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। গত ৫ সেপ্টেম্বর নিলুফাকে গাছে বেঁধে বাঁশ দিয়ে ব্যাপক মারধর করে মোবারক। এরপর নিলুফার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
খবর পেয়ে নিলুফার বাবা সইদুর রহমান বেয়াইর বাড়ি যান। গিয়ে দেখেন মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিলুফাকে শুক্রবার গঙ্গারামপুরের কালদিঘি হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে শনিবার মালদহ মেডিক্যালে ভর্তি করা হলে সেখানে নিলুফার মৃত্যু হয়। মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সইদুর।
তাঁর কথায়, আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলল জামাই ও তার বাড়ির লোকজন। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে তপন থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।
রবিবার বধূর দেহ ময়নাতদন্তের পর ইটাহারে আনা হয়। মেয়ের মৃত্যুতে শোকে পাথর নিলুফার মা নাদেরা বিবি। মৃতার বাবা বলেন, আমার মেয়েটাকে ওরা বাঁচতে দিল না।
বিকেলে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে শববাহী গাড়িতেই বধূর দেহ রেখে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজনেরা। তপন থানার পুলিস জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।