Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

পথ দেখিয়েছিলেন ঝুলন-মিতালিরাই

আমরাও পারি! বিশ্বকাপ জিতে প্রমাণ করেছেন হরমনপ্রীতরা। মেয়েরা ক্রিকেট খেলবে শুনলে একটা সময় যাঁরা ভ্রু কোঁচকাতেন, তাঁরাই রবিবার মধ্যরাতে রাস্তায় নেমে দীপ্তি, শেফালিদের নামে জয়ধ্বনি দিলেন, উৎসবে মাতলেন।

পথ দেখিয়েছিলেন ঝুলন-মিতালিরাই
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমরাও পারি! বিশ্বকাপ জিতে প্রমাণ করেছেন হরমনপ্রীতরা। মেয়েরা ক্রিকেট খেলবে শুনলে একটা সময় যাঁরা ভ্রু কোঁচকাতেন, তাঁরাই রবিবার মধ্যরাতে রাস্তায় নেমে দীপ্তি, শেফালিদের নামে জয়ধ্বনি দিলেন, উৎসবে মাতলেন। এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী-ই বা হতে পারে! ২ নভেম্বর, ২০২৫— লেখা থাকবে স্বার্ণাক্ষরে। এটাই যে মহিলাদের ক্রিকেটে ‘বড়দিন’।

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনাল বলেই কি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেওয়া হল না? কাঠগড়ায় জয় শাহর আইসিসি এবং বিসিসিআই। কেউ কেউ বলছেন, ভারতীয় ক্রিকেট পুরুষতান্ত্রিক। কোহলি, রোহিতরা খেললে বড় শহরের সেরা ভেন্যুকে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু মেয়েরা ব্রাত্যই। তাঁরা যে দুয়োরানি। এই তত্ত্ব একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। তবে আইসিসি বা বিসিসিআই কর্তাদের শুধু দোষ দিয়ে লাভ নেই। নিজেকেও প্রশ্ন করুন তো, হারের হ্যাটট্রিকের পর কেউ কি ভেবেছিলেন হরমনপ্রীতের হাতে কাপ উঠবে? গ্রুপের ম্যাচে এই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে যখন দীপ্তিরা একের পর এক ক্যাচ ফেলছিলেন, তখন কটূক্তি ছুড়ে দিয়েছিলেন অনেকেই। মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নাক সিঁটকানি দু’দিন আগেও ছিল। তাছাড়া কত লোকই বা মাঠে গিয়ে গ্রুপ পর্বে মান্ধানাদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন? ডায়না এডুলজি, শান্তা রঙ্গস্বামীরা যখন সাতের দশকে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন, তখন পাড়া প্রতিবেশীরা মোটেও করতালি দিয়ে স্বাগত জানাননি। বরং জুটেছিল লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, ধিক্কার। চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তাঁরা বেড়া ভাঙার অভিযান শুরু করেছিলেন। তাঁদের দেখানো পথেই ঝুলন গোস্বামী, মিতালি রাজের মতো ধন্যি মেয়েদের উত্থান। 
ভোরবেলা চাকদহ থেকে বছর পনেরোর মেয়েটা যখন ট্রেনে চেপে বিবেকানন্দ পার্কে প্র্যাকটিসে আসত, তখন নিরাপত্তা বলতে কোলে মার্কেটে সব্জি কিনতে যাওয়া কিছু মহিলা। আর যত্নসহকারে টিফিন বক্সে মায়ের ভরে দেওয়া দুটো বাসি রুটি। তখন কী কেউ ভেবেছিলেন, এই ঝুলনই একদিন হয়ে উঠবেন চাকদহ এক্সপ্রেস। কম লড়াই কি করতে হয়েছে মিতালিকে? পাড়ার ছেলেদের সঙ্গেই ক্রিকেটের হাতেখড়ি। অথচ অনায়াসেই তিনি পারতেন ভারতনাট্টমকে কেরিয়ার হিসেবে বেছে নিতে। কিন্তু দাদাকে দেখে ক্রিকেটের প্রেমে পড়া ও এগিয়ে যাওয়া। সব ক্ষেত্রেই তাঁরা পেয়েছেন পরিবারের পূর্ণ সমর্থন। যাবতীয় বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তিল তিল করে তাঁরা গড়েছেন শক্ত ভিত। যার উপর দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বশ মানিয়ে বিজয় কেতন ওড়ালেন হরমনপ্রীতরা। 
ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর যে ছবি টিভির পর্দায় ভেসে উঠল, তা সোনালি ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। ঝুলন, মিতালিদের হাতে কাপ তুলে দিচ্ছেন হরমনপ্রীত। বঙ্গতনয়া ঝুলনের চোখ ভিজে গিয়েছে আনন্দাশ্রুতে। স্বপ্ন তো তাঁরাও দেখেছিলেন বিশ্বকাপ জেতার। কিন্তু পারেননি। বার বার ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে। কালের নিয়মেই অবসর। ব্যাটন তুলে দিয়েছিলেন যোগ্য উত্তরসূরিদের হাতে। হরমনপ্রীতরা আস্থার মর্যাদা রেখেছেন। সফল করেছেন স্বপ্নকে। যেখানে তুমি বা আমি নেই, নেই নারী-পুরুষের বিভেদ। এই সাফল্যের ভাগিদার সকলেই, গোটা দেশ। এদিকে, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ভারতীয় মহিলা দলকে অভিনন্দন জানাল ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ