Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বপ্নাদেশে ঘোষবাড়ির দুর্গা গড়েন মহিলারাই

আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগেকার কথা। দুই বাংলার একদিকে তখন চলছে খরা আর অন্যদিকে বন্যা।

স্বপ্নাদেশে ঘোষবাড়ির দুর্গা গড়েন মহিলারাই
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট: আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগেকার কথা। দুই বাংলার একদিকে তখন চলছে খরা আর অন্যদিকে বন্যা। তখন হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরের জমিদার গদাধর ঘোষ রাতে স্বপ্নাদেশ পান দুর্গাপুজো করার এবং মহিলাদের হাতে প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দেওয়ার। এরপর ধুমধাম করে রামেশ্বরপুরে ঘোষবাড়ির দালানে দুর্গাপুজো শুরু করেন তিনি। স্বপ্নাদেশ মেনে প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় মহিলাদের। এখনো পর্যন্ত নারীশক্তির হাতেই প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব অর্পণ করা রয়েছে ঘোষ জমিদার বাড়িতে। অবিভক্ত বাংলায় ঘোষবাড়ির পুজো ক্রমশ জমে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ জমিদার বাড়ির এই পুজো দেখতে আসেন। এখনও পুরনো রীতি মেনেই এই পুজো হয়। রথের দিন দুর্গা প্রতিমার কাঠামো বেঁধে পুজোর সূচনা হয়। তখন থেকেই রোজ সন্ধ্যাবাতি দেওয়া থেকে শুরু করে পুজোর নিয়মকানুন মানা শুরু হয়।

Advertisement

এই বিষয়ে ঘোষবাড়ির বংশধর তুহিন ঘোষ বলেন, আমাদের এই দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য, ইতিহাস ও আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি। এখন আর সেই জমিদারি প্রথা নেই। কিন্তু বছরের পর বছর সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আমরা চেষ্টা করে চলেছি, যাতে এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর ধারাটি কোনোভাবেই থেমে না যায়। এলাকার বাসিন্দা ও জমিদার বাড়ির সকল সদস্যদের নিয়ে পুরনো ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।
এই পুজো নিয়ে এলাকার এক শিক্ষক রাজেশ লস্কর বলেন, আগে দেখেছি ঘোষবাড়ির পুজো খুব ধুমধাম করে হতো। এলাকার প্রচুর বাসিন্দা এই বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করতেন। এখনও পুরনো রীতি মেনেই পুজো হয়, তবে জাঁকজমক অনেকটাই কমেছে এই পুজোর। তবুও এই বাড়ির পুজোকে ঘিরে এলাকার বাসিন্দারা এখনও মেতে ওঠেন আনন্দে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ