অমিত দাস: সালটা ১৯৯১। অনূর্ধ্ব-১৯ ইস্ট বেঙ্গল দলের হয়ে ধারাবাহিক ভালো খেলার সুবাদেই খুলেছিল সিনিয়র দলের দরজা। মূলত কলকাতা লিগের জন্যই কোচ নায়িম স্যার আমায় অনুশীলনে ডেকেছিলেন। কয়েকটা ম্যাচ বেঞ্চে বসার পর অবশেষে বিএনআরের বিরুদ্ধে সুযোগ মেলে। সেই সময় দলের প্রতেকেই আমার সিনিয়র। তবে মাঠে মানিয়ে নিতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। সকলেই আমাকে খুব গাইড করেছিলেন। আর প্রথম ম্যাচে ভালো খেলার পুরস্কার পেয়েছিলাম। কে দিয়েছিল? কৃষ্ণেন্দু রায়। এই ছোট্ট উপহার সেদিন আমাকে আরও ভালো খেলতে উৎসাহ জুগিয়েছিল। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর মোহন বাগান, মহমেডান স্পোর্টিংয়ের জার্সিও গায়ে চাপাই। কেরিয়ারের শেষলগ্নে ফিরি ইস্ট বেঙ্গলে।
কলকাতা লিগের ম্যাচ দেখেই বড় হওয়া। আমাদের সময়ে লড়াই ছিল জমজমাট। ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগান জার্সিতে খেলার চাপ থাকত আলাদা। গোল হলে ভালো। আর না হলে গ্যালারির চাপ ঘাড়ে চেপে বসত। এমনই একটি ম্যাচের কথা মনে পড়ছে। সেবার আমি মোহন বাগানে। প্রতিপক্ষ সোনালি শিবির। দুরন্ত ফুটবল খেলেও গোল তুলে নিতে ব্যর্থ আমরা। ম্যাচের বয়সের সঙ্গে গ্যালারিতে বাড়ছে উত্তেজনা। ভেসে আসছিল চোখা চোখা বিশেষণ। বিরতিতে ড্রেসিং-রুমে ফেরা দায় হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সংযোজিত সময়ে চিমার গোলে আসে জয়। আর নিমেষেই বদলায় ছবিটা। দর্শকদের কাঁধে চেপে মাঠ ছেড়েছিলাম। এটাই ছিল কলকাতা লিগে ঘেরা মাঠে খেলার মজা। ভালো খেললে পঞ্চানন, না হলে পাঁচু। তাই নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার তাগিদ থাকত প্রতি ম্যাচে। এখন দেখি ময়দানে ফুটবল হয় না। জেলার মাঠে হাতে গোনা সমর্থক থাকে মাত্র। তাই লিগের জৌলুস ফেরাতে ময়দানে আনতে হবে ফুটবল। দর্শক ছাড়া ভালো খেলার উৎসাহ পাওয়া যায় না। তেমনই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। ভালো মানের বিদেশিদের বিরুদ্ধে খেলেই সেটা সম্ভব। তাই আইএফএ’র উচিত, সংখ্যা কমিয়ে হলেও ভালো মানের বিদেশি খেলানোর অনুমতি দেওয়া। এতে স্থানীয় ফুটবলারদের মান বাড়বে।