নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বেঁকে বসল বিজেপি শাসিত রাজ্যই। ছত্তিশগড় মোদি সরকারকে মুখের ওপর জানিয়ে দিল, আগাম তিন মাসের রেশন তুলতে পারবে না। মে মাসের মধ্যে তো নয়ই। সময়সীমা অন্তত ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হোক। ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র জন্য বরাদ্দ চাল-গম প্রতি মাসে ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার থেকে সংগ্রহ করে রাজ্য। সেখান থেকে যায় রেশন দোকানে। গ্রাহককে যে মাসে দেওয়া হয়, তার আগের মাসে তা সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু গত ৬ মে সব রাজ্যকে চিঠি দিয়ে খাদ্য ও গণমন্ত্রক মন্ত্রক জানায়, আগামী তিন মাসের (অর্থাৎ জুন-আগস্ট) একসঙ্গে তুলে নিন। বর্ষা আসছে। কেন্দ্রীয় গুদামে রাখার সমস্যা। বন্যা হলে আরও বিপদ। আগামী দু দফায় তিন মাসের রেশন তুলে নেওয়ারই নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। প্রথমে মে, পরে জুন মাসেও একইভাবে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) তিন মাসের রেশন তুলে নিতে বলা হয়। তিন মাসের জন্য খাদ্যশস্য লাগে ১৩৮ লক্ষ মেট্রিক টন।
ঘটনাচক্রে, সেই একই কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে ছত্তিশগড়। গত ২৬ মে কেন্দ্রীয় গণবণ্টনের দায়িত্বে থাকা যুগ্মসচিব রবিশঙ্করকে চিঠি দিয়েছেন ছত্তিশগড় খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক রীনা কাঙ্গালে। বলেছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আচমকাই বৃষ্টি এসে যাচ্ছে। এমত পরিস্থিতিতে মে মাসের মধ্যে আগামী তিন মাসের রেশন তোলা সম্ভব হচ্ছে না। রাখার সমস্যা। তাই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত করা হোক। ছত্তিশগড় মুখ খুলতেই একই পথ অনুসরণ করেছে জম্মু-কাশ্মীর। তারাও খাদ্যমন্ত্রককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, সামনেই অমরনাথ যাত্রা। আসন্ন সেই যাত্রায় পূণ্যার্থীদের খাওয়াদাওয়া, ওষুধপত্র, যাতায়াতের ব্যবস্থা মসৃণ করতে সরকারি প্রায় সব দপ্তরের সিংহভাগ আধিকারিক ব্যস্ত। এমতাবস্থায় আবার তিন মাসের রেশন একসঙ্গে সংগ্রহের কাজে মন দেওয়া যাবে না। তাই তিন মাস নয়, বর্তমানে যেভাবে এক মাসের অগ্রিম খাদ্যশস্য সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে, সেটাই বজায় থাকুক। তিন মাসের একসঙ্গে তোলা এবং রেশন দোকানদারদের তা বিতরণে সমস্যা হবে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিকে চিঠিও দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন।