নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামি চুরির মামলায় সিবিআই তদন্তের দরজা বন্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে পেশ হওয়া একঝাঁক আবেদন সোমবার খারিজ করেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে উত্তরপ্রদেশ সরকার জানায়, তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিট ইতিমধ্যেই নিম্ন আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে। সীমাবদ্ধ সিসিটিভি ফুটেজ সত্ত্বেও অভিযুক্তরা চুরির টাকা সরিয়ে কোথায় কোথায় গচ্ছিত ও বিনিয়োগ করেছিল, তার বিবরণ চার্জশিটে রয়েছে। একথা শোনার পরই সিবিআই তদন্ত সংক্রান্ত রিট পিটিশনগুলি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রণামি চুরির ইস্যুতে শীর্ষ আদালত সিবিআই তদন্তের দরজা বন্ধ করায় আপাতত স্বস্তিতে যোগী আদিত্যনাথ সরকার।
সিবিআই তদন্তের আবেদনগুলি খারিজ করলেও এদিন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রণামি চুরির এই মামলা নিম্ন আদালতে আইন মোতাবেক চালাতে হবে। মামলার সঙ্গে জনস্বার্থও যে জড়িয়ে রয়েছে, সেকথা এদিন স্বীকার করে নিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। সেই সূত্রেই সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা মেনে নিম্ন আদালতকে সহায়তা করার স্বাধীনতাও আবেদনকারীদের দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে, একইসঙ্গে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে অভিযোগের সারবত্তা কতটা, সেবিষয়ে কোনো অভিমত প্রকাশে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত।
উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তরফে এদিন আদালতে উপস্থিত হন সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি সুপ্রিম কোর্টকে জানান, প্রণামির টাকা গোনার কাজ চলাকালীন চুরির ঘটনাগুলি ঘটেছিল। গণনাকর্মীরাই টাকা সরিয়েছেন। মাত্র ৪৫ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। কারণ ৪৫ দিনের থেকে বেশি পুরানো ফুটেজ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে মুছে যায়। তদন্তকারীরা তাই আর্থিক নথিপত্রের মাধ্যমে পূর্বের চুরিগুলির বিষয়ে তদন্তের প্রক্রিয়া এগিয়েছেন। মেহতা আরও বলেন, অভিযুক্তরা প্রণামি চুরির টাকা হয় কোথাও বিনিয়োগ করত, নাহলে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রাখত। তাই, অভিযুক্ত কর্মীদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্ট আমরা খতিয়ে দেখে অনিয়মের মোট পরিমাণ নির্ধারণ করেছি। একটি উদাহরণ তুলে ধরে সলিসিটার জেনারেল বলেন, বিক্রয় দলিলে ১৫ লক্ষ টাকায় সম্পত্তি কেনার কথা উল্লেখ থাকলেও সেটির দর ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। বাকি টানা মেটানো হয়েছিল নগদে।



