Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে ইজরায়েলি নাগরিকদের ভরসা ভূগর্ভস্থ রেলওয়ে স্টেশন

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রীতিমতো আতঙ্কিত ইজরায়েল। তেল আভিভ, রামাত গান, হাইফার মতো শহরে ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে ইজরায়েলি নাগরিকদের ভরসা ভূগর্ভস্থ রেলওয়ে স্টেশন
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তেল আভিভ: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রীতিমতো আতঙ্কিত ইজরায়েল। তেল আভিভ, রামাত গান, হাইফার মতো শহরে ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। কিছুক্ষণ ছাড়াই বেজে উঠছে সাইরেন। এই পরিস্থিতিতে হামলা থেকে বাঁচতে ইজরায়েলের বাসিন্দাদের এখন ভরসা ভূগর্ভস্থ ট্রেন স্টেশন। সেখানেই পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছেন তাঁরা। চলছে খাওয়া দাওয়া। তরুণ প্রজন্ম স্টেশনেই শুয়ে-বসে সিনেমা দেখে সময় কাটাচ্ছেন। প্ল্যাটফর্মেই ছোটাছুটি করছে খুদেরা। আপাতভাবে সবই যেন স্বাভাবিক। যদিও কবে যুদ্ধ থামবে, তা নিয়ে মনে মনে সকলেই উদ্বিগ্ন। যেমন তেল আভিভের বাসিন্দা ইভেন্ট প্ল্যানার আজিজা মেলেচ। গত কয়েকদিন সাইরেনের শব্দ শুনেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে হয়েছে ৩৪ বছরের আজিজাকে। শেষ পর্যন্ত বিছানা নিয়ে ভূগর্ভস্থ স্টেশনেই আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। সেখানে আপাতত নিশ্চিন্ত তিনি। আজিজার সঙ্গেই থাকছেন তাঁর বন্ধু সোনিয়া স্রাইবমেন। তিনি বলেন, ‘সাইরেন বাজলেই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। ফলে ঘুম আসছে না। প্রত্যেকবার সাইরেন বাজলেই শেল্টারে আশ্রয় নিতে দৌড়ানো খুবই ভয়ের।’ দৌড়াতে গিয়ে রাস্তায় পড়েও গিয়েছিলেন সোনিয়া। তাই স্টেশনেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আজিজা মজা করে বলেন, ‘আমরা দাদু-ঠাকুর্দার কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গল্প শুনেছি। আমরাও এবার নাতি-নাতনিদের কাছে গল্প করতে পারব।’ চলতি সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ইরানে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ জনের বেশি সাধারণ নাগরিক। আহতের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, ইজরায়েলে এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহু বাড়ি বিধ্বস্ত। ইজরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সব বাড়িতেই শেল্টারের ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানি কম হয়। কিন্তু সমস্যা বাড়িয়েছে ইজরায়েলের পুরনো বহুতলগুলি। সেখানে সকলের জন্য শেল্টারের ব্যবস্থা নেই। ওই বহুতলগুলিতে মূলত বিদেশি শ্রমিকরা বসবাস করেন। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ওই শ্রমিকরা। তাঁরাও এখন ভূগর্ভস্থ স্টেশনেই আশ্রয় খুঁজছেন। ভারত থেকে ইজরায়েলে কাজ করতে গিয়েছিলেন ৪৮ বছরের বাবু চিনাবেরি। ১০ বছর ধরে গৃহ সহায়ক হিসেবে কাজ করেন তিনি। বাবুর বক্তব্য, ‘প্রচণ্ড ভয়ে আছি। ইরান যে সব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, সেগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই স্টেশনে এসে ঘুমোচ্ছি।’ শুধু স্টেশন নয়, শপিং মলের ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারাজও আশ্রয় নেওয়ার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তেল আভিভের সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডের ‘অ্যাটমিক শেল্টার’ও বহু বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

রই আসরাফ তাঁর তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে রামাত গানের স্টেশনে থাকছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘অহেতুক ঝুঁকি নিতে চাই না। আশা করি, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। যদিও এই সংঘাতে ইজরায়েল সরকারকেই সমর্থন করছেন রই। 

সম্পর্কিত সংবাদ