সংবাদদাতা, লালবাগ: নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয় দেহ। দু’বছর আগের এই ঘটনায় এক যুবককে যাবজ্জীন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। সাজাপ্রাপ্তের নাম আতিকুল শেখ। বৃহস্পতিবার লালবাগ মহকুমা ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক ঋষি কেশরী যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেন।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুরের ওমাইপুর বিলপাড়ার রাহেমা খাতুনের সঙ্গে স্থানীয় যুবক আতিকুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট রেহেমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাইকে চাপিয়ে লালবাগের দিকে নিয়ে যায় আতিকুল। মুর্শিদাবাদ থানার রঞ্জিতপাড়ার একটি আইসক্রিম মিলের পিছনে কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য কলাবাগানে কিছুটা গর্ত করে মাটিতে দেহ পুঁতে দিয়ে কলাপাতা চাপা দিয়ে দেয়। খুনের চার দিনের মাথায় ইসলামপুর থানার পুলিস কলাবাগান থেকে ওই নাবালিকার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে। সরকারি আইনজীবী পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ আতিকুল ফোন করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকাকে ডাকে। ঘর বাঁধার আশায় ওই নাবালিকা কাউকে না জানিয়ে নগদ ১০ হাজার টাকা ও কিছু সোনার গয়না নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এলাকার কিছু মানুষ ওই নাবালিকাকে আতিকুলের বাইকে চেপে লালবাগের দিকে যেতে দেখেছিল। নাবালিকা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার দু’দিন পর নাবালিকার মা রেহেনা বিবি এক প্রতিবেশীর থেকে জানতে পারেন, আতিকুলের বাইকে চেপে তাঁর মেয়ে লালবাগের দিকে যাচ্ছিল। ১৭ আগস্ট রেহেনা বিবি ইসলামপুর থানায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস ওইদিনই অভিযুক্তকে জেরা করে জানতে পারে, রঞ্জিতপাড়ার একটি কলাবাগানে নাবালিকার দেহ পুঁতে রেখেছে। পরের দিন ওই যুবককে সঙ্গে নিয়ে পুলিস কলাবাগানে আসে এবং পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের পাশ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করে। অভিযুক্ত পুলিসকে জানায় সে, বিয়ের প্রতিশ্রতি দিয়ে নাবালিকাকে নিয়ে এলেও পরে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। তার জেরেই সে তাকে খুন করেছে। মামলা শুরুর প্রায় তিন মাসের মাথায় পুলিস চার্জশিট জমা দেয়। ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে বিচারক বুধবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এদিন সাজা ঘোষণা হল। আমরা ফাঁসির আবেদন জানিয়েছিলাম। বিচারক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন। নাবালিকার মা রেহেনা বিবি বলেন, আইনের উপর আমার আস্থা ছিল। এদিন আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেল।
এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে প্রিজনভ্যানে ওঠার সময় আতিকুল জানায়, সে মেয়েটিকে চেনে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার আইনজীবী সওকত আলি বলেন, এই সাজা যথার্থ হয়নি। খুব শীঘ্রই এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করব। আমি নিশ্চিত উচ্চ আদালতে এই রায় খারিজ হয়ে যাবে।
এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে প্রিজনভ্যানে ওঠার সময় আতিকুল জানায়, সে মেয়েটিকে চেনে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার আইনজীবী সওকত আলি বলেন, এই সাজা যথার্থ হয়নি। খুব শীঘ্রই এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করব। আমি নিশ্চিত উচ্চ আদালতে এই রায় খারিজ হয়ে যাবে।



