সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুরে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়কেন্দ্রে (সিপিসি) প্রতি কুইন্টালে ৫ কেজি করে ধলতা কাটা সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন চাষিদের একাংশ। সিপিসির একাধিক অনিয়ম নিয়ে শুক্রবার ব্লক প্রশাসন, ব্লক কৃষি দপ্তর, মহকুমা প্রশাসন ও মহকুমা খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানান চাষিরা। চাষিদের এই সমস্যাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। চাষি মহম্মদ তৌসিফ রেজা বলেন, ফড়েরা ধান ক্রয়কেন্দ্র ঘিরে রাখছে। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কুইন্টালে ৫ কেজি করে ধলতা কাটা হচ্ছে। ৫ কেজি ধানের দাম ১১৬ টাকা। অর্থাত্ শুধু ধলতা থেকেই প্রতি কুইন্টালে ১১৬ টাকা পাচ্ছে। সিপিসিতে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার কুইন্টাল ধান কেনা হয়। তাহলে ধলতা থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ লক্ষেরও বেশি টাকা হচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, সপ্তাহে প্রায় ১৪ লক্ষ এবং মাসে প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা ধলতা থেকেই পাচ্ছেন রাইস মিল মালিকরা। চাষিদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাইস মিল কর্মী মনতোষ মণ্ডল। তিনি বলেন, আমরা সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ করছি। ধলতা থেকে যে বিপুল অর্থ অবৈধভাবে উপার্জন হচ্ছে তার ভাগ কে কে পাচ্ছে? এই চক্রের পিছনে কে কে আছে? বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন চাষিরা। তৌসিফ বলেন, যে বস্তায় চাষিরা ধান নিয়ে আসে সেই বস্তা ফেরত দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। এই সমস্ত অনিয়ম নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিয়েছি। ২৩ ডিসেম্বর আমরা সিপিসিতে স্মারকলিপি দেব। কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, প্রতি কুইন্টাল ধানে ৫-৬ কেজি পর্যন্ত ধলতা কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মহকুমা আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছি। যাচাই না করে সমস্ত ধানেই ধলতা কাটা ঠিক নয়। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের ইসলামপুর মহকুমা আধিকারিক মুসির আহমেদ বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।



