শ্রীনগর: অপারেশন সিন্দুরে পাকিস্তানের একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারত। তারপরও শিক্ষা হয়নি ইসলামাবাদের। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ধুলোয় মিশে যাওয়া জঙ্গি ডেরাগুলি ফের গড়ে তোলা হচ্ছে। এরফলে ফের ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বাড়ছে। লস্কর-ই-তোইবা, জয়েশ-ই-মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিন এবং রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির জঙ্গিরা সীমান্ত পেরোতে মুখিয়ে রয়েছে। তবে তাদের এধরনের চেষ্টা ভেস্তে দিতে তৎপর ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর গত ৭ মে অপারেশন সিন্দুর চালিয়েছিল ভারতীয় সেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের লুনি, পুটওয়াল, টিপু পোস্ট, জামিল পোস্ট, উমরানওয়ালি, চারপার ফরওয়ার্ড, ছোটা চক এবং জাংলোরা সহ বিভিন্ন ঘাঁটিগুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, জঙ্গিদের ওই গুঁড়িয়ে যাওয়া ঘাঁটিগুলি ফের গড়ে তুলতে উঠেপড়ে লেগেছে পাকিস্তানি সেনা, আইএসআই। আরও উন্নত করে তৈরি হচ্ছে ঘাঁটিগুলি। জানা গিয়েছে, এআই প্রযুক্তি, নজরদারি এড়ানো ও বিমান হানা প্রতিরোধের মতো ব্যবস্থা থাকছে সেখানে। তাছাড়া প্রতিটি ক্যাম্পে থাকছে ১০০ জঙ্গির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও।
বিএসএফের আইজি শশাঙ্ক আনন্দ বলেন, অপারেশন সিন্দুরে ধ্বংস জঙ্গিঘাঁটি নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে পাকিস্তন। কৃত্রিম মেধা (এআই) সহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে সেখানে। তবে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন সীমান্তে। জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ এবং কোনওরকম সন্দেহজনক গতিবিধিতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সামনেই শীতকাল। এই সময় সীমান্তে এই টহলদারি করতে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গেও লড়াই চালাতে হয় জওয়ানদের। তার সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ভারতে যাতে প্রবেশ করতে না পারে, তারজন্য টহলদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে নেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তির সাহায্য। অন্যান্য কৌশলগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণরেখাতেও তৎপর সেনা।