ইস্ট বেঙ্গল- ৩ : নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড- ০
(ইউসেফ-২, মিগুয়েল)
ইস্ট বেঙ্গল- ৩ : নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড- ০
(ইউসেফ-২, মিগুয়েল)
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গল মাঠ হলে সমর্থকদের কোলে চেপে গাড়িতে উঠতেন ইউসেফ এজ্জেজারি। হয়তো ফ্ল্যাটের দরজায় পৌঁছে যেত তাজা ইলিশও। সোমবারের যুবভারতীতে স্প্যানিশ স্ট্রাইকারই ইস্ট বেঙ্গলের ধুরন্ধর। অস্কার ব্রুজোঁর লাল গোলাপ। যার গন্ধে সুরভিত ইস্ট বেঙ্গল। আর কাঁটার খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত নর্থ ইস্ট। আইএসএলের ইতিহাসে প্রথমবার জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ইস্ট বেঙ্গল। নর্থ ইস্টকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মশাল জ্বলল লাল-হলুদ গ্যালারিতে।
গোল ছাড়া ফুটবল যেন নুনবিহীন তরকারি। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও আসল কাজে ব্যর্থ অস্কার ব্রিগেড। চোটের কারণে কেভিন, নাওরেম মহেশ ও রাকিপকে পাননি স্প্যানিশ কোচ। হাতে কোনও বিদেশি ডিফেন্ডার নেই। রক্ষণ আগলে রাখতে শুরু থেকেই প্রেসিং ফুটবল খেলাতে চেয়েছিলেন লাল-হলুদ কোচ। ৪-৫-১ ফর্মেশনে সিঙ্গল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় নবাগত ইউসেফ কেমন খেলেন নজর ছিল সেদিকেও। প্রথম ম্যাচেই রাজার মুকুট ইউসেফের মাথায়। ২২ মিনিটে সুবিধানজনক জায়গায় বল পেয়েও বাইরে মারলেন। না হলে হ্যাটট্রিক হয়ে যায়। শুরুর ঢিলেমি ছেড়ে গা-ঝাড়া দিল ইস্ট বেঙ্গল। এরপর ১৫ মিনিটের স্পেলে নর্থ ইস্টকে কাঁপিয়েও গোল পেলেন না মিগুয়েলরা। ৩৫ মিনিটে রশিদের গোলার মতো শট পোস্টে আছড়ে পড়ে। ফিরতে বলে মিগুয়েলের শট প্রতিহত করেন বিপক্ষ গোলরক্ষক। পরের মুহূর্তে তুলোর মতো বল ভাসিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল। এক্ষেত্রে নন্দর হেড বাইরে যায়। ইউসেফের পাস থেকে মিগুয়েলের কোনাকুনি শট নিলেও তেকাঠিতে রাখতে পরেননি। মাঝমাঠে মিগুয়েল, রশিদ, সাউলের ত্রিভুজ মশাল বাহিনীর সম্পদ। ক্রমাগত উইংয়ে বল সুইচ করে নর্থ ইস্ট দুর্গে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলেন তাঁরা।
বিপক্ষ রক্ষণে ফাটল ধরতে স্ট্রেচ করা দরকার। দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়াতে নন্দকে তুলে এডমুন্ডকে নামালেন অস্কার। ছেলেটির বডি ল্যাঙ্গুয়েজে আলাদা জোশ আছে। ঝিমিয়ে থাকা ইস্ট বেঙ্গলে টনিকের কাজ করলেন তিনি। ৬৪ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় মশালবাহিনী। বাঁ দিক থেকে বিপিনের ভাসানো বলে অনেকটা স্পট জাম্প করে জাল কাঁপান সেই ইউসেফ (১-০)। ৭০ মিনিটে আবার গোল। এক্ষেত্রে এডমুন্ড প্লেটে করে সাজিয়ে দিলেন বল। ইউসেফের বাঁ পায়ের ভলি আছড়ে পড়ে জালে (২-০)। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছানোর পুরস্কার মিলল হাতেনাতে। সংযোজিত সময়ে কোনাকুনি শটে দুরন্ত ফিনিশ মিগুয়েলের (৩-০)। জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করায় খুশি ইস্ট বেঙ্গল কোচ অস্কার। এদিকে, সোমবারই ভিসা পেলেন ইস্ট বেঙ্গলের ষষ্ঠ বিদেশি অ্যান্টন সোয়বার্গ। সম্ভবত বুধবারই শহরে আসছেন তিনি।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, লালচুংনুঙ্গা, জিকসন (মার্তণ্ড), আনোয়ার, জয়, সাউল (শৌভিক), রশিদ, মিগুয়েল, বিপিন (বিষ্ণু), নন্দ (এডমুন্ড) ও ইউসেফ (ডেভিড)।