নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বই ছাপতে দিয়ে প্রতারণার মুখে পড়তে হয়েছিল ধর্মীয় সংগঠন ইসকন-কে। ২০১৯ সালের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে শনিবার রাতে গিরিশ পার্ক এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ধৃতের নাম দেবরাজ ভট্টাচার্য। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্দিষ্ট বরাতের থেকে কম বই সরবরাহ করে ভুয়ো ইনভয়েস জমা দিয়ে দু’কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে জাল নথি। জালিয়াতির টাকা কোথায় সরানো হয়েছে, ধৃতকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে ইসকন কর্তৃপক্ষ তাদের ধর্মীয় বই ছাপানোর জন্য টেন্ডার ডাকে। তা দেখে যোগাযোগ করেন ছাপাখানা সংস্থার মালিক দেবরাজ ভট্টাচার্য ও শ্যামলকান্তি দাস। ব্যবসায়িক নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর বরাত দেওয়া হয় তাঁদের। সেই মতো বই ছাপিয়ে পাঠানো হয় ইসকনে। বইগুলি সোজা চলে যায় তাদের স্টোর রুমে। তারপর সেগুলি যথারীতি তাদের বিভিন্ন স্টল ও কাউন্টারে যেতে থাকে। স্টলগুলির চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে ইসকন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বরাত অনুযায়ী বই এলে এই অবস্থা হওয়ার কথা নয়। তখন ইসকন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। তাতেই ধরা পড়ে বড়সড় গরমিল। কত বই ওই ছাপাখানা সরবরাহ করেছে এবং বিভিন্ন কাউন্টারে কত বই পাঠানো হয়েছে, অডিট টিম সেই হিসেব মিলিয়ে দেখতে শুরু করে। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় বড়সড় কেলেঙ্কারি। দেখা যায়, খাতায়কলমে যে পরিমাণ বই সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে তা ইসকনের হাতে আসেনি। অথচ আগেই বরাত অনুযায়ী দাম মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে ভুয়ো ইনভয়েস। সব মিলিয়ে দু’কোটি টাকার প্রতারণা ধরা পড়ে। সেই বছরই ইসকন কর্তৃপক্ষ দেবরাজ ও শ্যামলকান্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শেক্সপিয়র সরণি থানায়।
তদন্তে নেমে পুলিশ ছাপাখানা কর্তৃপক্ষের জমা দেওয়া ইনভয়েস সংগ্রহ করে। কোম্পানির তথ্য নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দেবরাজ অন্যের জিএসটি নম্বর ব্যবহার করে কোম্পানি চালাচ্ছিলেন। সেই জিএসটি নম্বর দিয়েই বিল জমা পড়েছে। অফিসাররা বুঝতে পারেন, ছাপাখানার মালিক ভুয়ো ইনভয়েস দিয়েছেন। দেবরাজের খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগের পর থেকেই তিনি বেপাত্তা হয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। কয়েকদিন আগে পুলিশ জানতে পারে, তিনি কলকাতায় ফিরেছেন। তাঁর নতুন মোবাইল নম্বর জোগাড় করে টাওয়ার লোকেশন দেখে জানা যায়, গিরিশ পার্ক এলাকায় রয়েছেন তিনি। সেখানে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতে পাঠান। ভুয়ো বিল দিয়ে তুলে নেওয়া টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, সেই তথ্য খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, একাধিক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে জালিয়াতির টাকা। শেষ পর্যন্ত ওই টাকা কোথায় পাচার হয়েছে, সেটাই জানতে চায় পুলিশ।
ছবি: সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে