Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইসিজি মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নেই টেকনিশিয়ান আছে এক্স-রে মেশিন অকেজো

ইসিজি মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নেই টেকনিশিয়ান আছে এক্স-রে মেশিন অকেজো
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ইসিজি যন্ত্র আছে, কিন্তু টেকনিশিয়ান নেই। আবার এক্স-রে টেকনিশিয়ান থাকলেও যন্ত্র অকেজো। খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে পরিকাঠামোর এই বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। চিকিৎসকরা রোগীদের আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে বা ইসিজি করাতে পাঠান। বাধ্য হয়ে অনেক রোগী বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি প্যাথ ল্যাব থেকে এসব পরীক্ষা করান। সমস্যা মেটাতে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
Advertisement
খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ সুশান্ত মজুমদার বলেন, ইসিজি ও এক্স-রে মেশিনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফের তাদের সমস্যার কথা জানানো হবে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলি কর বলেন, নার্সিং স্টাফরা ইসিজি করেন। মেশিন ও টেকনিশিয়ান এলে পাঠানো হবে।
খানাকুল বন্যাকবলিত এলাকা। প্রায় প্রতি বছর খানাকুল থানার বিভিন্ন এলাকা ডিভিসির জল ছাড়া ও অতিবৃষ্টির জেরে প্লাবিত হয়। এবছর দু’মাস আগে খানাকুলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। এই বন্যাকবলিত এলাকার বহু মানুষ খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালের উপর নির্ভর করে। খানাকুল ১ ও ২ ব্লক থেকে বহু রোগী এই হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩০জন রোগীর ইসিজি ও এক্স-রে করার প্রয়োজন পড়ে। প্রায় দু’বছর ধরে ইসিজি যন্ত্র চালানোর টেকনিশিয়ান নেই। ফলে যন্ত্রটি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে রয়েছে। আবার এক্স-রে যন্ত্র চালানোর জন্য দু’জন টেকনিশিয়ান রয়েছেন। কিন্তু এখন যন্ত্রটিই অকেজো। ফলে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
হৃদরোগে আক্রান্তদের জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে ইসিজি করাতে হয়। তার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করতে পারেন। কিন্তু সেই পরিষেবা না মেলায় রোগীদের খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তর্জাও শুরু হয়েছে। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বেহাল। বাধ্য হয়ে গরিব মানুষকে বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরিষেবা নিতে হচ্ছে।
খানাকুল-২ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি রমেন প্রামাণিক বলেন, আগের তুলনায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এখন অনেক ভালো হয়েছে। চিকিৎসক নিয়োগও চলছে। ইসিজি ও এক্সরে চালুর বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপি তো কেন্দ্র থেকে কোনও বরাদ্দ আনতে পারেনি। ওদের পায়ের তলায় মাটি না থাকায় এসব বলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ