নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আশঙ্কা তৃণমূলের। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে। তার মোকাবিলায় রণকৌশল তৈরি করল তৃণমূল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, সোমবার থেকেই শুনানি কেন্দ্রের বাইরে ক্যাম্প বা শিবির করতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে সবাইকে। এদিকে রবিবার রানিবাঁধ বিধানসভায় আত্মহত্যা করেছেন একজন বিএলও। সুইসাইড নোটে তিনি মানসিক চাপের উল্লেখ করেছেন। এই প্রসঙ্গে কমিশনকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলা এসব ক্ষমা করবে না।
রবিবার তৃণমূলের সমস্ত জনপ্রতিনিধি, দলীয় পদাধিকারী, বুথ লেভেল এজেন্টদের নিয়ে রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করেন অভিষেক। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। লক্ষাধিক তৃণমূল কর্মী ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশগুলি সেখানেই দলীয় কর্মীদের জানিয়ে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, সোমবার থেকে প্রতিটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলের শিবির হবে। শুনানির সময় থাকতে হবে তৃণমূলের বিএলএ-২’কে। ভোটারের নথির প্রয়োজনে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। বিএলও’দের পাশে ছায়াসঙ্গী হিসেবেই কাজ করবেন তাঁরা।
অশীতিপর ব্যক্তিকেও শুনানি কেন্দ্রে টেনে আনা হচ্ছে! কেউ কেউ ভীষণই অসুস্থ। অভিষেক বলেন, প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে কমিশন ভোটগ্রহণ করে। তাহলে এসআইআর শুনানিতে সেই নিয়ম নয় কেন? এই দাবিতে আজ সোমবার কমিশনের দপ্তরে যাবে তৃণমূল প্রতিনিধি দল।
এছাড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ভার্চুয়াল শুনানি চান তৃণমূল সেনাপতি। তাঁর বক্তব্য, কমিশন তাঁদের টিএ দিচ্ছে না। তাহলে রুটিরুজি নষ্ট করে তাঁরা আসবেন কীভাবে? হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোটেও তো ভার্চুয়াল শুনানি হয়। এসআইআর প্রক্রিয়াকে একটি যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি বলেন, যুদ্ধ শুরু গিয়েছে। সকলকে সজাগ থাকতে হবে। মোকাবিলা করতে হবে। অভিষেকের সংযোজন, এক ইঞ্চি জমি ছাড়া চলবে না। এই যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন বিএলএ-২’রা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় দলের কোনও কর্মী কেমন দায়িত্ব পালন করলেন, তার পর্যালোচনা করবে তৃণমূল। অভিষেকের স্পষ্ট বক্তব্য, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, পুর চেয়ারম্যান কিংবা দলীয় পদাধিকারী পদে না থাকলে লেখা হয় ‘প্রাক্তন’। কিন্তু কর্মী কোনওদিন প্রাক্তন হন না।