নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) নতুন আইন করার ব্যাপারে সংস্থার মধ্যে থেকেই তীব্র আপত্তি উঠলেও কেন্দ্র সেটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। এটা তাদের কার্যক্রমেই পরিষ্কার। কারণ নতুন আইন করার জন্য ফের একটি খসড়া বিল তৈরি করে তার উপর মতামত চাওয়া হলেও আগেরটির মূল বিষয়গুলির কোনও পরিবর্তনই করা হয়নি। আইএসআই-এর এক প্রবীণ অধ্যাপক জানিয়েছেন, নতুন খসড়াটিতে কিছু ‘প্রসাধনী পরিবর্তন’ করা হয়েছে মাত্র। যেসব নীতিগত বিষয়ের বিরুদ্ধে আইএসআই-এর ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক থেকে কর্মী-আধিকারিকরা একসঙ্গে আন্দোলনে নেমেছেন সেখানে কোনও পরিবর্তনই করা হয়নি। বরং আইএসআই-এর কলকাতা সদর দপ্তরকে আরও দুর্বল করা হয়েছে। তাছাড়া যেভাবে মতামত জানানোর জন্য মাত্র পাঁচটি দিন দেওয়া হচ্ছে, তাতেও ক্ষুব্ধ সবাই। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে মতামত দিতে বলা হয়েছে এবং তা জানানো হয়েছে ১০ ডিসেম্বর। কেন্দ্র জানিয়েছে, ২৮ নভেম্বর নতুন খসড়াটি সংখ্যাতত্ত্ব ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত চায়। যদিও আইএসআই-এর অধ্যাপক-ছাত্ররা বলছেন, এই বিষয়টি তাঁদের কাছেও অজানা ছিল। ১০ ডিসেম্বর রাতে পিআইবির একটি প্রেস বিবৃতিটি প্রকাশিত হওয়ার পরই তাঁরা নতুন খসড়াটির ব্যাপারে জানতে পারেন।
তবে কম সময়ের মধ্যে দুটি খসড়ার পর্যালোচনা করে তাঁরা দেখেছেন নতুন খসড়াতে যৎসামান্যই পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন আইএসআই-এর সব প্রফেসার পদমর্যাদার শিক্ষক অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে স্থান পাবেন। আগের খসড়ায় এটা না-থাকলেও পুরোনো আইনে এই ব্যবস্থা আছে। আইএসআই-এর বোর্ডে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য দু’জন প্রফেসার থাকবেন। বোর্ডে যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত ব্যক্তিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই দু’জন শিক্ষকের পক্ষে বিশেষ কোনও ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে না। মনে করছেন আইএসআই-এর অধ্যপকরা। আইএসআই-এর ডিরেক্টর নিয়োগের ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইএসআই-এর সেন্টারগুলির প্রধানকে ডিরেক্টর বলা হবে। এর মাধ্যমে কলকাতা সদর দপ্তরের গুরুত্ব কমানো হয়েছে।
নতুন আইনটিতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের বিভিন্ন শহরে আইএসআই-এর সেন্টারগুলি আছে সেগুলিকে কার্যত স্বয়ংশাসিত করতে চাইছে। বোর্ড চাইলে দেশের মধ্যে আরও সেন্টার খুলতে পারবে। বিদেশেও আইএসআই-এর সেন্টার খোলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগের খসড়াটিতে আইএসআই গঠনের আমূল পরিবর্তন করে এখনকার ‘সোসাইটি’ চরিত্র থাকবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরের খসড়াটিতে এর কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ফি নিয়ে এবং আরও অন্য উৎস থেকে অর্থ জোগাড় করার বিষয় রয়েছে এই খসড়াতেও। নতুন বিলটি সংসদে পাশ হয়ে আইন হিসেবে কার্যকর হলেই আইএসআই-এর ১৯৫৯ সালের আইনটি বাতিল হয়ে যাবে। সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনে নতুন আইএসআই বিলটি না এলেও পরবর্তী অধিবেশনেই সেটি পেশ করা হতে পারে। মনে করছেন সংস্থার অধ্যাপকরাও।