চেন্নাই: অপ্রতিরোধ্য ঈশান কিষান। দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ম্যারাথন ইনিংসে ২৭০ করলেন তিনি। চিপকে দ্বিতীয় দিনের শেষে পূর্বাঞ্চল থেমেছে ৭০৮ রানে। এই ম্যাচ এখন কার্যত এক ইনিংসের খেলায় পরিণত। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে দক্ষিণাঞ্চলকে টপকে যেতে হবে পূর্বাঞ্চলের রান। পিচ যতই নিষ্প্রাণ হোক, সাতশোর বেশি রান তোলা সহজ হবে না তিলক ভার্মা ব্রিগেডের পক্ষে। অর্থাৎ, অ্যাডভান্টেজ পূর্বাঞ্চল। ১৩ বছর পর দলীপ জয়ের গন্ধ পাচ্ছে তারা।
প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন ঈশান। সোমবার ১১১ থেকে শুরু করেন তিনি। আর দলের স্কোর ৪ উইকেটে ৩৮৫। অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে পূর্বাঞ্চলকে দ্রুত রানের পাহাড়ে তুলে নিয়ে গেলেন কিপার-ব্যাটসম্যান। তিন জাতীয় নির্বাচকের সামনে রীতিমতো বিধ্বংসী মেজাজে প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করলেন ঈশান। আড়াইশো পেরিয়ে দারুণভাবেই এগচ্ছিলেন তিনশোর দিকে। মনে হচ্ছিল,১৯৮৭-তে রমন লাম্বা ও ২০০১ সালে গগন খোদার পর দলীপে ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক হবেন তিনি। কিন্তু ত্রিপুরানা বিজয়ের বলে স্টেপ আউট করে ছক্কা মারার নেশায় সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন ২৮ বছরের বাঁ-হাতি ব্যাটার। তবে ৩৩৪ ডেলিভারিতে ৩০টি চার ও ৭টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে লাল বলের ক্রিকেটেও প্রতিভার সাক্ষর রাখলেন ঈশান। থামলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের সর্বাধিক রানের (২৭৩) একেবারে কাছে গিয়ে। প্রচণ্ড গরমে একবার রিটায়ার্ড হার্ট হতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। তখন ঈশানের স্কোর ২৫০। সপ্তম উইকেট পড়ার পর তিনি ফের ক্রিজে যান। চালিয়ে খেলে তিনশোর গণ্ডি পরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা হয়নি।
ঈশানের পাশাপাশি এদিন নজর কাড়লেন কুমার কুশাগ্র। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ষষ্ঠ শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ১৩২ বলে তাঁর ১০১ রানে রয়েছে ৮টি চার ও ৫টি ছক্কা। পঞ্চম উইকেটে ঈশান ও কুশাগ্র যোগ করেন ২৩০ রান। অনুকূল রায় (৪৫), কৌনাইন কুরেশি (৪০), মহম্মদ সামিও (২৮) অবদান রাখেন ব্যাট হাতে। দক্ষিণাঞ্চলের সফলতম বোলার ত্রিপুরানা বিজয় (৪-১৮০)। তবে হতাশ করলেন মহম্মদ সিরাজ। ২৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৪০ রান দিয়ে উইকেটহীন তিনি।