নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এতদিন ‘জোড়াফুল’ কার হবে, তাই নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ দেখেছে বাংলা। সেই জোড়াফুল চিহ্ন ‘ফ্রিজ’ হওয়ার পর, খাম চিহ্ন নিয়ে নতুন করে সমস্যা শুরু হল। কারণ, ঋতব্রত তৃণমূলকে খাম চিহ্নে লড়াই করার অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে আইএসএফ বরাবর ওই খাম চিহ্ন নিয়ে লড়াই করে আসছে। এমনকি আইএসএফ নন্দীগ্রামে প্রার্থীও দিয়েছে। গোটা বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। তিনি ইতিমধ্যেই কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছেন। কমিশনের তরফে এই ঘোষণার পরেই শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছেন নৌশাদ। বিকেলে দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকও বসেছিল। ওদিকে নন্দীগ্রামের আইএসএফ প্রার্থী সবে মিরাজ খান এর মধ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই মনে করছেন।
নৌশাদ বলছেন, ‘তৃণমূলের চিহ্ন ফ্রিজ করা নিয়ে আমি আগেই বলেছি, এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। দেশজুড়ে যেখানেই বিরোধীরা একটু শক্তিশালী, তাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল প্রার্থী তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিলেন। তাহলে এখন লড়াই কে দেবে? খাম চিহ্নের আইএসএফ। আমার মনে হচ্ছে, এটা আমাদের দুর্বল করার চক্রান্ত।’
নির্বাচন কমিশনের কাগজপত্র হাতে নিয়ে নৌশাদ আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের মার্চের ১০ তারিখ কমিশন চিঠি দিয়ে বলেছিল, খাম চিহ্ন ব্যবহার করার জন্য। এটা ‘ফ্রি সিম্বল’ অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিয়েছি। এই উপনির্বাচন তো আগের নির্বাচনেরই অংশ। তাহলে কমিশন কীভাবে এই চিহ্ন অন্য কাউকে দিল? আমরা আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করব। কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছি। না-হলে আদালতে যাব।’ তাঁর আরও যুক্তি, আইএসএফ গত বিধানসভা ভোটে পুরশুড়ায় বামেদের সমর্থন করেছিল। কিন্তু খাম চিহ্নের নির্দল (আইএসএফ নয়) প্রার্থী প্রায় ২২০০ ভোট পেয়েছিলেন। নৌশাদ স্পষ্ট জানান, চিহ্ন তাঁরা বদলাবেন না। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা বলেন, আইএসএফ নেতাদের রাজনৈতিক জ্ঞানগম্যি কম। খামটা ‘ফ্রি সিম্বল’। ওটা দাবি করলেই হয় না।
এদিকে, হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টিরও নির্বাচনি প্রতীক বদলাতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। গত নির্বাচনে ‘বাঁশি’ প্রতীকে লড়েছিল। এবার তারা ‘টেবল’ প্রতীক পেতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।