Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাপড়ায় প্রার্থী ঘোষণা করল আইএসএফ

নদীয়া জেলার বাংলাদেশ লাগোয়া সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা হল চাপড়া। তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতেই এসআইআর পর্বে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে কয়েক হাজার ভোটার হয়রানির মুখে পড়েছিলেন।‌

চাপড়ায় প্রার্থী ঘোষণা করল আইএসএফ
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার বাংলাদেশ লাগোয়া সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা হল চাপড়া। তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতেই এসআইআর পর্বে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে কয়েক হাজার ভোটার হয়রানির মুখে পড়েছিলেন।‌ নির্বাচন পর্ব শুরু হতেই, চাপড়ার বিভিন্ন এলাকার কর্মী বৈঠকের ফাঁকে তৃণমূল প্রার্থী ভোটারদের সেই সমস্ত দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। মনে করিয়ে দিচ্ছেন. সেই কঠিন সময়ে তৃণমূল কীভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল। পাশাপাশি, পুরোনো মান অভিমান ভুলে নীচুতলার কর্মীদের একসঙ্গে  চলার বার্তাও পোঁছে দিচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। লক্ষ্য লোকসভার থেকেও  বিধানসভায় ভোট মার্জিনকে আরও বাড়ানো।  অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এখনও ময়দানে নামতে পারেনি।‌ গৃহযুদ্ধ সামাল দিতেই নাস্তানাবুদ অবস্থা বিজেপির। চাপড়ায় প্রার্থী বদল চেয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। রবিবার জুপ এবং সোমবার চাপড়া বিধানসভায় সদ্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে আইএসএফ। আসনটি তাদের জন্য ছেড়ে রেখেছিল বামেরা। চাপড়া বিধানসভায় বিরোধীরা কোনও ভোটেই সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি। এই কেন্দ্রে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে এই ৫৭ হাজার এবং উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ৫০ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল।‌ শুধুমাত্র ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে তৃণমূল জিতলেও, জয়ের মার্জিন কমে হয়েছিল ১২ হাজার। তার কারণ তৃণমূল নেতা জেবের শেখ, সেবার নির্দলে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল। তাঁকেই এবার চাপড়া বিধানসভায় তৃণমূল টিকিট দিয়েছে। একসময় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে সরগরম থাকা চাপড়া বিধানসভায় এখন তৃণমূলের মধ্যে ঐক্যের দখিনা হাওয়া। একসময় দুই শিবিরে আড়াআড়িভাবে বিভক্ত থাকা ব্লক সভাপতি সুকদেব ব্রহ্ম এবং জেবের শেখ এখন একসঙ্গে বাইকে চেপে‌ প্রচার করছেন চাপড়াজুড়ে। রাজনৈতিক মহলও যাকে ‘বিরল’ দৃশ্য বলেই দাবি করছেন। প্রচারের ফাঁকে জেবের শেখ বলেন, ‘প্রতিটা অঞ্চলে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। চাপড়া তৃণমূলের জয় শুধু অপেক্ষা মাত্র। রেকর্ড মার্জিনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা এক জোট হয়েই লড়াই করছি।’ সোমবার হাতিশালার এলাকায় এক কর্মী বৈঠকে সুকদেব ব্রহ্ম বলেন, ‘অতীতে কিছু ঘটনায় আমাদের মতের অমিল হয়েছিল। কিন্তু মনের অমিল হয়নি। জেবের ভাইকে জেতানোই আমাদের লক্ষ্য।’  বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকার বলেন, ‘বাংলাজুড়ে সংখ্যালঘু মানুষও পরিবর্তন চাইছেন। তাই তাঁরাও আমাদেরকেই এবার ভোট দেবেন। এবছর চাপড়ায় অন্য হওয়া দেখা যাবে। প্রতি মণ্ডলে বৈঠক চলছে।’ এই প্রথমবার চাপড়া বিধানসভায় আইএসএফ প্রার্থী দিচ্ছে। প্রার্থী জাকির মণ্ডল বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিক এটাই চাইব। আমরা এই আসন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ চাপড়া বিধানসভায় ২০১৬ সালে সিপিএম ভোট পেয়েছিল ৪০ শতাংশ ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেটাই ১২ শতাংশ এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালে বিজেপির মাত্র ৮ শতাংশ ভোট ছিল। সেটাই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ২৮ শতাংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ