নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বার্নপুরে ইস্কোর পরিত্যক্ত পেল্লাই বাংলো পুড়ে ছাই হয়ে গেল। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও রঙে ঠাসা বাংলোর ঘরগুলি জতুগৃহ হয়ে ছিল। শনিবার রাতে সেখানেই আগুন লাগে। মুহূর্তে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ড। প্রশ্ন উঠছে, কেন এত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ছিল পরিত্যক্ত বাংলোটিতে। অদ্ভুত বিষয়, এখনও এই ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। এসিপি ঈপ্সিতা দত্ত বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। বার্নপুর সার্কুলার রোড, ব্যাংক রোড অভিজাত এলাকা। ইস্কোর জিএম, চিফ জেনারেল ম্যানেজার পদমর্যাদার আধিকারিকদের বাংলো রয়েছে এখানে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলোটি পরিত্যক্ত। এখানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও রং রেখে যেত ঠিকা সংস্থার লোকজন। স্থানীয়রা আগুন লাগার খবর দেয় হীরাপুর থানা ও ইস্কো কর্তৃপক্ষকে।
ইস্কোর দু’টি ও রাজ্য সরকারের একটি দমকলের ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। পুলিস ও দমকলকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে আগুন নেভান। ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করা এক আধিকারিক জানান, প্রতিটি ঘরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের সরঞ্জাম ছিল। অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় এই সামগ্রীগুলি রাখা বিপজ্জনক। অদ্ভুত বিষয় হল, লক্ষ লক্ষ টাকা সামগ্রী পুড়ে গেলেও, সেগুলির মালিকানা দাবি করেননি কেউ। এখানেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকের মতে, অবৈধভাবে সেসব রাখা হয়েছিল বলেই কেউ প্রকাশ্যে আসছে না। অনেকের সন্দেহ, বিভিন্ন সময়ে সামগ্রী সরবরাহে বেনিয়াম ধরা পড়ে। অতীতে দেখা দিয়েছে, এইসব সামগ্রী পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে বেনিয়াম ধরা না পড়ে। তা হয়নি তো! স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অশোক রুদ্র বলেন, গরিব মানুষ ইস্কোর কোয়ার্টারে থাকলে তাদের উচ্ছেদ করতে তৎপর হয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। কীভাবে এত বড় বাংলো দখল করে গোডাউন বানানো হল? আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। রাজ্যের প্রতিটি ইস্যুতে সরব বিজেপি বিধায়ক অগ্রিমিত্রা পল কিন্তু নিজের বিধানসভা এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নীরব। তাকে ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইস্কোর আধিকারিক ভাস্কর কুমার বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র