Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আন্দোলনের চাপে বিশাল অবৈধ নির্মাণ ভাঙল ইস্কো

দফায় দফায় অভিযোগ আর আন্দোলনের জেরে বার্নপুরে সীমানার মধ্যে থাকা ১৫০০ বর্গফুটের বিশাল পাকা অবৈধ নির্মাণ ভাঙল ইস্কো কর্তৃপক্ষ

আন্দোলনের চাপে বিশাল অবৈধ নির্মাণ ভাঙল ইস্কো
  • ২৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দফায় দফায় অভিযোগ আর আন্দোলনের জেরে বার্নপুরে সীমানার মধ্যে থাকা ১৫০০ বর্গফুটের বিশাল পাকা অবৈধ নির্মাণ ভাঙল ইস্কো কর্তৃপক্ষ। শনিবার জেসিবি দিয়ে ওই অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেয় ইস্কো কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, দিনের আলোয় চার-পাঁচদিন ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বার্নপুর স্টেশন রোডে এই অবৈধ নির্মাণ হল কীভাবে? বিশেষ করে যেখানে এই জায়গায় একটি শিবমন্দির ছিল। ইস্কো কর্তৃপক্ষ এসে সেই মন্দির ভেঙে পুরো জায়গাটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেয়। ইস্কোর ঘিরে দেওয়া প্রাচীরের ভিতরেই অবৈধ নির্মাণে কারা মদত দিয়েছিল তা নিয়েও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরব হয়েছিলেন। তাঁরা স্থানীয় কাউন্সিলারকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এনিয়ে আন্দোলনও শুরু হয়। তখনই উঠে আসে ইস্কোর তিন আধিকারিকের যোগসাজশের কথা। ইস্কো অবৈধ নির্মাণ ভাঙলেও যাঁরা এই নির্মাণে মদত দিয়েছিলেন তাঁদের কী হবে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন বার্নপুরবাসী। 

Advertisement

ইস্কোর জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর কুমার বলেন, অবৈধ নির্মাণটি ভাঙা হয়েছে। এই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে যে সব অভিযোগ রয়েছে, তাও ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। 
বার্নপুর শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ইস্কো টাউনশিপের অন্তর্গত। বার্নপুর স্টেশন বাজার, স্টেশন রোড, ডেলি মার্কেট সহ বার্নপুর বাজারের মূল অংশের মালিক ইস্কো কর্তৃপক্ষ। তাই কোনও দোকানের সামান্য সংস্কার করতে গেলেও ইস্কোর অনুমতি প্রয়োজন হয়। অভিযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ইস্কো কঠোর মনোভাব নিলেও এই অবৈধ নির্মাণের সময় তাঁরা কী চোখে ঠুলি পড়ে ছিলেন। শিবমন্দির এলাকা দখল ও ঘিরে তাই হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে বার্নপুর স্টেশন রোডে শিবমন্দিরটি ছিল। মন্দিরের সামনের জমিতে কয়েক বছর ধরেই গণেশ পুজো করেন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা। ইস্কো নিজের সেই জমিই ঘিরে নিয়ে নির্মাণ হবে বলে জানায়।  
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তারপরই দেখা যায় অন্য একটি নির্মাণ হচ্ছে। যা বড় দোকানের রূপ নিয়েছে। শিবমন্দিরের জায়গায় এই অবৈধ নির্মাণ মেনে নেননি এলাকাবাসী। তাঁরা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আন্দোলনে নামেন স্থানীয় কাউন্সিলার অশোক রুদ্রও। অবশেষে চাপে পড়ে ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙল ইস্কো কর্তৃপক্ষ। 
এবিষয়ে অশোকবাবু বলেন, শুধু নির্মাণ ভাঙলেই হবে না ইস্কোর যে সব আধিকারিক এই কাজে মদত দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আগেও এই ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে অবৈধ নির্মাণ তৈরি করা হয়েছে। পরে ইস্কোর অসাধু চক্রই নথির হেরাফেরি করে বৈধ বানিয়ে দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ