পরামর্শে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ তপন গিরি।
পরামর্শে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ তপন গিরি।
প্রায় সময় দাঁতে ব্যথা, দাঁতে ক্ষয় কিংবা মাড়ির রোগ। আপনি ভাবছেন— ও তেমন কিছু না। দাঁতে একটু-আধটু সমস্যা হতেই পারে। কেউ কেউ আবার স্থানীয় কোনও দোকান থেকে নানারকম ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তির পথ খুঁজছেন। এক্ষেত্রে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ দাঁতের এই মাড়ির সমস্যা বা ব্যথা কিন্তু শরীরের কোনও বড় রোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তা ডায়াবেটিস বা গুরুতর হৃদরোগও হতে পারে। এখানেই শেষ নয়। শরীরের পাশাপাশি মানসিক রোগের সঙ্গেও দাঁতের যোগ অনেক গভীরে।
শারীরিক সমস্যা
শুরুতেই ব্লিডিং ডিজঅর্ডারের উপর আলোকপাত করা যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত হিমোফিলিয়া সহ নানা রকমের ব্লিডিং ডিজঅর্ডার দেখা দেয়। খেলতে গিয়ে বা কোনও কারণে পড়ে গেল। হাত পা কেটে গেল। কিন্তু কিছুতেই রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। আর এই সমস্যা কিন্তু প্রথমে দাঁত থেকেই ধরা পড়ে।
লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও প্রথম ইঙ্গিত মেলে দাঁত থেকেই। এক্ষেত্রে গাম ডিজিজ বা দাঁতের মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া সহ নানা সমস্যা দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে এখান থেকেই বোঝা যায় লিউকেমিয়া হয়েছে কি না। দেখা গেল দাঁতের মুখের ভিতরের অংশ বিশেষ করে মাড়ির জায়গাগুলো ফ্যাকাশে। যাকে চিকিৎসার ভাষায় পেল গামস বা পেল জিঞ্জিভা বলা হয়। এখান থেকে কিন্তু অ্যানিমিয়া রোগ চিহ্নিত করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ডায়াবেটিস ও দাঁতের সমস্যার বিষয়টি। কারও ডায়াবেটিস হলে প্রথমেই প্রভাব পড়ে দাঁতে। দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া, ব্যথা, ক্ষয় ইত্যাদি থেকে সহজেই বোঝা যায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
গাম ডিজিজ বাড়লেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ভিতরে ভিতরে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ডায়াবেটিস। এড়িয়ে গেলেই বিপদ। এর পাশাপাশি কারও যদি ক্রমাগত মাড়ির সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এর সঙ্গে হৃৎপিণ্ডের যোগও রয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের আশঙ্কাও প্রবল।
এছাড়াও নানা হরমোনাল ইমব্যালেন্স, কেউ অন্তঃসত্ত্বা হলেও দাঁতে ও মাড়িতে নানা সমস্যা দেখা যায়। এগুলি থেকে সহজেই শরীরের অন্যান্য রোগ ধরতে পারেন চিকিৎসকরা।
মানসিক সমস্যা
এই গেল শারীরিক সমস্যার কথা। দাঁতের সঙ্গে জড়িয়ে নানা মানসিক সমস্যাও। সাধারণ ব্যথা থেকে দাঁতের কোনও বড় সমস্যা, মাড়ির রোগ, মুখে দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে মানসিক সমস্যাও। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনে বিরক্তি, উদ্বেগ এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সেখান থেকে অবসাদ তৈরি হয়। অনেকে কথা বলতে গিয়ে গন্ধ বেরলে আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করেন। মানসিক হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করেন। নিজেকে সামাজিক কার্যকলাপ থেকে গুটিয়ে নেন। নানা রকমের ফোবিয়া তৈরি হয়। এককথায় বলতে গেলে দাঁতের সমস্যার সঙ্গে শরীরের ও মনের নানা রোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাই অবিলম্বে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। --- লিখেছেন শোভন চন্দ