সংবাদদাতা, কাটোয়া: দাবানল রুখতে চলছে লাগাতার প্রচার। আউশগ্রামের জঙ্গলে পাতা ঝরার মরশুমে যাতে কেউ আগুন না লাগায়, তারজন্য বনদপ্তর প্রচার চালাচ্ছে। তারপরেও আউশগ্রাম জঙ্গলমহলে আগুন লাগছে। গত দু’দিন ধরে আউশগ্রামের আদুরিয়ার জঙ্গল দাউ দাউ করে জ্বলল আগুনে। গাছের শুকনো পাতায় আগুনের লেলিহান শিখা বড় গাছের ডালেও ধরে যায়। আগুন নেভাতে হিমশিম খায় বনদপ্তর। বড় জঙ্গলে মাত্র একটিই রয়েছে ফায়ার ব্লোয়ার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। আগুন বাগে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বনকর্মীদের। তবুও অগ্নিকাণ্ড ঘিরে রহস্য বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, এর পিছনে কাঠ পাচারকারীদের হাত নেই তো? তাই নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
বনদপ্তরের দাবি, আউশগ্রামের আদুরিয়া বিটের আড়াই হাজার হেক্টর জঙ্গল রয়েছে। এটি পানাগড় রেঞ্জের অধীনে। বিটে মাত্র একটিই রয়েছে ফায়ার ব্লোয়ার। তা দিয়ে জঙ্গলের বড় আগুন বাগে আনা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই পাতাঝরার মরশুমে জঙ্গলকে আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে প্রয়োজন আরও যন্ত্র। সেই সঙ্গে ফায়ার ওয়াচার নিয়োগ করতে হবে। যদিও বনদপ্তরের দাবি মেনে নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা বলেন, আরও বেশি সংখ্যক ফায়ার ব্লোয়ার যন্ত্র মজুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছি। তাছাড়া ফায়ার ওয়াচারও নিয়োগ করা হবে। পানাগড় রেঞ্জের রেঞ্জার প্রণবকুমার দাস বলেন, বনদপ্তরের তহবিল কম। তারমধ্যে থেকেও যতটা সম্ভব আমরা আগুন নেভানোর জন্য চেষ্টা করব৷
গত দু’দিন ধরে আদুরিয়া বিটের হেদোগড়িয়া সহ বেশ কিছু অংশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের জঙ্গলেও। পরে খবর পেয়ে আদুরিয়া বিট থেকে বনদপ্তরের অফিসাররা রাত পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজ চালান। এর আগে আউশগ্রামের জঙ্গলের আগুন দেরাদুনে ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়ার স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছিল। প্রতি বছর নিয়ম করে মার্চ মাসে আউশগ্রামের জঙ্গলের শুকনো পাতায় প্রথমে আচমকা আগুন লাগে। তারপর তা দাবানলের মত জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তা লাগোয়া জঙ্গলেই মূলত আগুন লাগে। তারপর ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে।
বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, কেউ বা কারা অসৎ উদ্দেশ্যে জঙ্গলের শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগলে ময়ূরের যেমন ক্ষতি হবে। ঠিক তেমনি অন্যান্য জীবজন্তুরও ক্ষয়ক্ষতি হবে। এখন ময়ূরের বাসস্থান হয়েছে আদুরিয়ার রাঙাখুলার জঙ্গলে। পাশাপাশি আদুরিয়া জঙ্গলে ইন্ডিয়ান উলফ বা হেরোল, খরগোশ, অজগর, বনমুরগি, বনবিড়াল, প্রভৃতি প্রাণীরও বেশি সংখ্যায় দেখা মিলছে। হেরোলের সংখ্যাও আগের থেকে বেড়েছে। কিন্তু বনদপ্তরের এক অফিসার জানান, অনেকে ইচ্ছা করে আগুন ধরিয়ে দেয় জঙ্গলের শুকনো পাতা।৷ তাতে কোনও গাছ ঝলসে গেলে পরে রাতের অন্ধকারে সেই গাছ কেটে পাচার করে তারা। এসবের বিরুদ্ধে এবার কড়া ব্যবস্থা নেবে বনদপ্তর। আউশগ্রামে কাঠ পাচার কারী চক্রটি বেশ কয়েক বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে৷ দাবানলের নামে চক্রটির হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত করবেন বনদপ্তরের অফিসাররা।