


ওয়াশিংটন, ২৬ মে: ফের আমেরিকা ইরান সংঘাত তুঙ্গে। শান্তি আলোচনার আবহের মধ্যেই আমেরিকা-ইরান সংঘাতে ফের নতুন মোড়। প্রথমে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাসে একের পর এক বিস্ফোরণ। তারপর সোমবার রাতে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের জাহাজে আমেরিকার হামলা। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও এয়ার স্ট্রাইক ফের পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই অভিযানের দায় স্বীকার করে সেন্টকম জানিয়েছে, গোটা পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে 'আত্মরক্ষার স্বার্থে'।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে আন্তর্জাতিক জলপথকে বিপজ্জনক করে তুলছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। এমনকি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খসড়াতেও এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলের সমস্ত মাইন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার ফের হরমুজ় প্রণালীতে মাইন বসানোর চেষ্টা চলছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সেনা। নজরদারিতে বিষয়টি ধরা পড়তেই শুরু হয় হামলা। মার্কিন যুদ্ধবিমান প্রথমে আইআরজিসির দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরে দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হয়। আবার আমেরিকা আরও দাবি করেছে, পালটা ইরানও হামলা চালিয়েছে। হরমুজ় সংলগ্ন এলাকা থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এরপরই সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করে সেই ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করা হয়।
ঘটনার পর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি তেহরান। তবে শান্তি আলোচনার আবহের মধ্যেই আমেরিকা-ইরান সংঘাত ফের নতুন মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে কূটনৈতিক মহলে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।