Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পিছু হটছে কেন্দ্র? অক্টোবর নয়, জানুয়ারি মাসে ইউপিআই লেনদেনে মাশুল কার্যকর

দু’হাজার টাকার উপর ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মাশুল (এমডিআর) ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। চলতি অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ থেকে বিক্রেতাদের উপর তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

পিছু হটছে কেন্দ্র? অক্টোবর নয়, জানুয়ারি মাসে ইউপিআই লেনদেনে মাশুল কার্যকর
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: দু’হাজার টাকার উপর ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মাশুল (এমডিআর) ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। চলতি অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ থেকে বিক্রেতাদের উপর তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। উৎসব মরশুমের মাঝপথে এই ব্যবস্থা চালু নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই মাশুল চালু হলে ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। ভোগ্যপণ্যের চাহিদাও সংকুচিত হতে পারে। ইতিমধ্যে একদিন বিক্ষিপ্তভাবে ‘নো ইউপিআই ডে’ পালন করেছেন বিক্রেতারা। নগদ লেনদেনে ফিরে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। চাপ ক্রমশ বাড়ছে বুঝতে পেরে উৎসবের মরশুমে ইউপিআইতে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সম্ভবত পিছিয়ে আসতে চলেছে সরকার। এমনটাই দাবি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে তারা জানিয়েছে, ইউপিআইতে এমডিআর চালুর দিনক্ষণ পিছিয়ে দিচ্ছে সরকার। ১৫ অক্টোবর নয়, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই মাশুল ব্যবসায়ীদের উপর কার্যকর হতে পারে। খুব শীঘ্র এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে চলেছে কেন্দ্র। যদিও ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) এব‌্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি। অন্য একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুধবার ইউপিআই এবং সার্ভিস স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এনসিপিআই। সেখানে মাশুল চালুর নতুন দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিন জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ইউপিআইতে এমডিআর কবে চালু হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

ছ’বছর ধরে নিখরচায় ইউপিআই পরিষেবা দিয়েছে এনপিসিআই। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, গত আগস্ট মাসেই মোট ২৯.৮২ লক্ষ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে। ভারতে ব্যবসা এখন অনেকাংশে ইউপিআই নির্ভর। আর সেই কারণেই হয়েছে বিপত্তি। চলতি অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে উৎসবের মরশুম। ফলে কেনাকাটা অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময়ে ২০০০ টাকার উপর ইউপিআই লেনদেনে মাশুল বসতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। লেনদেনের ব্যবস্থাতেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই পুরো ব্যবস্থা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলি। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধা সংক্রান্ত এই থিঙ্কট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) অবশ্য মাশুল বসানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ‘ব্যাংকগুলিকে নগদ লেনদেন, এটিএম পরিকাঠামো এবং শাখা চালানোর খরচ বহন করতে হয়। ডিজিটাল লেনদেনে এ ধরনের কোনো খরচ নেই। বরং ইউপিআই ব্যবহার করলে ৫৫ কোটি গ্রাহকের খরচের ডেটা নিতে পারে পেমেন্ট অ্যাপগুলি। সেই ডেটা ব্যবহার করে তারা বিমা, ঋণ এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রির সুযোগ পায়।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ভারতে মার্কিন সংস্থা ফোন পে এবং গুগল পে ৮০ শতাংশ ডিজিটাল লেনদেনের বাজার দখল করেছে। মাশুল চালু হলে এই সংস্থাগুলি লাভবান হবে। ভারত যেন কোনোভাবেই ইউপিআই নিয়ে মার্কিন চাপের কাছে মাথানত না করে, সেই আরজি জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ