Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

২০২৭ সালে রাষ্ট্রপতি পদে মোদি? ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে রাইসিনা হিলস! চর্চা সঙ্ঘ-বিজেপির অন্দরে

২০২৭ সালে রাষ্ট্রপতি পদে মোদি? ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে রাইসিনা হিলস!  চর্চা সঙ্ঘ-বিজেপির অন্দরে
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন এই ২০২৫ সালে এসে হঠাৎ নাগপুর গেলেন নরেন্দ্র মোদি? জল্পনার প্রথম ধাপ ছিল সেই সফর। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অথচ তাঁর এই রাজনৈতিক শিখর আরোহণের কারিগর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সদর দপ্তরে একবারও উপস্থিত হননি। তাহলে এমন কী হল যে, গত ৩০ মার্চ সেখানে হাজির হতে হল তাঁকে? এহেন চর্চার প্রধান কারণ, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ৭৫ বছর বয়সে পা দেবেন মোদি। তিনি স্বয়ং অঘোষিত নিয়ম তৈরি করেছেন— এই বয়স পেরিয়ে গেলেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিতে হবে বিজেপির নেতানেত্রীকে। এবার নিজের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম প্রয়োগ করবেন কি? সংসদের মধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা, মোদির নাগপুর সফর কি এই কারণেই?

Advertisement

এসবের মধ্যে দ্বিতীয় একটি জল্পনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছে বিজেপি এবং সঙ্ঘের অন্দরে। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর নাগপুর যাত্রার এক সপ্তাহের মধ্যে। জনান্তিকে তুমুল চর্চা চলছে যে, ২০২৭ সালে নরেন্দ্র মোদিকেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করবে সঙ্ঘ তথা বিজেপি। এই জল্পনার প্রাথমিক অনুঘটক, বিশিষ্ট কয়েকজন জ্যোতিষীর কমবেশি একই ভবিষ্যদ্বাণী— ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত নাকি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন মোদি। এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন সঙ্ঘ নির্ধারিত অন্য কেউ। আর তার ঠিক এক বছরের মধ্যে ২০২৭ সালের জুলাই মাসে নির্ধারিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবার স্বমহিমায়, নতুন আসনে আসীন হবেন তিনি। জ্যোতিষীদের নিছক পূর্বাভাসই হঠাৎ বিজেপির অন্দরে চর্চায়।
এমনকী সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনে বিজেপি এমপিদের কাছে এমন সম্ভাবনার কথা জানতে চেয়েছেন কয়েকজন অবিজেপি দলের সাংসদও। এখন প্রশ্ন হল, এই জল্পনার মধ্যে আদৌ কতটা যুক্তি কিংবা রাজনৈতিক  সমীকরণ আছে? উত্তরে বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। মোদি যদি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস আসার আগেই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান তাহলে দুনিয়াজুড়ে বার্তা যাবে যে, তাঁর মধ্যে দ্বিচারিতা নেই। যে নিয়মের মাধ্যমে লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর যোশি, শান্তাকুমারদের সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠিয়েছেন, নিজের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম অনুসরণ করলেন। আর রাষ্ট্রপতির আসনে বসার অর্থ সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা। যদিও সাংবিধানিক সর্বোচ্চ পদে বসবেন তিনি। বিজেপি এবং সঙ্ঘের একাংশ মনে করছে, নরেন্দ্র মোদি যদি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সেটা হবে স্বাধীন ভারতে সর্বকালীন রেকর্ড। কারণ, এই প্রথম কোনও একটি রাজনৈতিক দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি, সংসদীয় গণতন্ত্রের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পদেই আসীন হবেন। এই রেকর্ড আর কারও নেই। অদূর ভবিষ্যতে হবে, এরকম সম্ভাবনাও ক্ষীণ। 
আবার মোদি রাষ্ট্রপতি হওয়ার অর্থ, এই প্রথম ভারতের সংসদীয় ক্ষমতার ভরকেন্দ্র চলে যাবে রাইসিনা হিলসের রাষ্ট্রপতি ভবনে। আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টেরিয়ান ডেমোক্রেসি ভারতে বহাল থাকলেও, ক্ষমতার সমীকরণ কার্যত প্রেসিডেন্সিয়াল ডেমোক্রেসির মতোই হয়ে যাবে। এতকাল ধরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রতীকী এবং আলঙ্কারিক। কিন্তু সত্যিই যদি মোদি প্রবেশ করেন রাইসিনা হিলসে, তাহলে প্রত্যক্ষভাবে না হলেও রাষ্ট্রপতি ভবন থেকেই যে কোনও নীতি ও সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত সিলমোহর আসবে। ২০৩২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর থাকার অর্থ, মোদির অঙ্গুলিহেলনই বজায় থাকবে সরকার ও দল পরিচালনায়। পাশাপাশি তাঁকে গুরুত্বহীন এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরিচয়েও নিছক আটকে থাকতে হবে না। বরং বাধ্যতামূলকভাবে সমস্ত রাজনৈতিক দল, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিচারবিভাগ এবং রাজ্য সরকারগুলির থেকে শর্তহীন সম্মান পাবেন। ২০২৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে ইলেকটোরাল কলেজ হবে, সেই সংখ্যার নিরিখে মোদির পক্ষে বিপুল গরিষ্ঠতা পাওয়া বিন্দুমাত্র সমস্যা হবে না। কিন্তু রাষ্ট্রপতির অধীনে কাজ করতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর ইগোয় লাগবে না? সেই প্রশ্ন উঠবেই না। কারণ, মোদি রাষ্ট্রপতি হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন অবশ্যই অমিত শাহ! যোগী আদিত্যনাথ নন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ