সংবাদদাতা মালদহ: জেলায় শাসকদলের মূল ও শাখা সংগঠনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে গত কয়েক দিনে। জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন পদের পাশাপাশি বদল করা হয়েছে যুব তৃণমূল, মহিলা তৃণমূল, আইএনটিটিইউসি সহ বেশ কয়েকটি শাখা সংগঠনের জেলা সভাপতি পদেও। তবে, যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, তা হল নতুন নেতৃত্বের প্রায় সকলেই মালদহের পুরসভা এলাকাগুলির বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি পুরসভা এলাকাগুলিই ক্রমশ মালদহে তৃণমূল নেতৃত্বের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে?
সাম্প্রতিক সময়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি পদে মালতীপুরের বাসিন্দা ও বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সিকে রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রতুয়ার বাসিন্দা ও বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের পরিবর্তে জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হয়েছেন ইংলিশবাজার পুরসভা এলাকার বাসিন্দা চৈতালি ঘোষ সরকার। তিনি ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদমণ্ডলীরও সদস্য। একইভাবে আদতে মানিকচকের বাসিন্দা তথা বিদায়ী জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ইংলিশবাজার পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার প্রসেনজিৎ দাস।
জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন গাজোলের বাসিন্দা সাগরিকা সরকার। তাঁকে সরিয়ে ওই পদে আনা হয়েছে ইংলিশবাজার পুরসভার আরেক প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা মালদহ শহরের বাসিন্দা প্রতিভা সিংকে। একই ভাবে আইএনটিটিইউসির নতুন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদারও পুরাতন মালদহ পুরসভার কাউন্সিলার ও ওই শহরের বাসিন্দা।
সব মিলিয়ে জেলা তৃণমূল ও শাখা সংগঠনগুলির নেতৃত্বের দায়িত্বে এসেছেন মালদহ ও পুরাতন মালদহ শহরের বাসিন্দা একঝাঁক নেতানেত্রী। তার ফলেই এই রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে, জেলা তৃণমূল সভাপতির দাবি, তৃণমূল গ্রাম-শহরের ভেদাভেদ করে না। দল যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাঁরা দায়িত্ব থেকে সরেছেন, তাঁদের কাউকে কাউকে সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে রাজনৈতিক দক্ষতার ভিত্তিতেই ব্যাখ্যা করা উচিৎ বলে দাবি করেন বক্সি।