নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ বণ্টন শুরু হয়েছে কলকাতায়। মূলত স্থানীয় কাউন্সিলাররা বাড়ি বাড়ি প্রসাদের প্যাকেট বিলির দায়িত্ব পেয়েছেন। শহরের দুই প্রান্তে, উত্তরে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং দক্ষিণে উত্তীর্ণ অডিটোরিয়ামে প্রসাদ প্যাকেটজাত করার কাজ চলছে। তবে বাড়িতে প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার আগে প্রশাসন প্রসাদের গুণমান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছে। শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে জগন্নাথদেবের প্রসাদী ক্ষীর থেকে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি। সেই মিষ্টি খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্ত শর্তাবলী মেনে তৈরি হয়েছে কি না, যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে সেটাই। দু’টি কেন্দ্রেই প্রসাদের গুণমান পরীক্ষার দায়িত্ব সামলাচ্ছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের ফুড সেফটি শাখা। পুরসভার ফুড সেফটি অফিসাররা নমুনা পরীক্ষা করছেন। তারপরই প্যাকেটজাত করে বিলি করতে পাঠানো হচ্ছে প্রসাদ।
২১ জুন থেকে শুরু হয়েছে প্রসাদ বণ্টনের কর্মসূচি। জেলায় জেলায় রেশন দোকান থেকে প্রসাদের প্যাকেট দেওয়া হলেও কলকাতায় এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলারদের। মিষ্টির দোকান থেকে প্রথমে প্রসাদ আসছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং উত্তীর্ণ অডিটোরিয়ামে। সেখানে গজা এবং প্যাঁড়া প্যাকেটে ভরা হচ্ছে। তারপর গাড়ি করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুরসভার বিভিন্ন বরো অফিসে। সেখান থেকে ওয়ার্ড অফিসে চলে যাচ্ছে প্যাকেট। এখন প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ প্যাকেট প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঠানো হচ্ছে বলে খবর। সেগুলি ওই দিনেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন কাউন্সিলাররা। প্রসাদী মিষ্টির গুণমান যাচাই করতে দুই কেন্দ্রে ব্যবস্থায় কোনও খামতি রাখা হয়নি। সূত্রের খবর, দুই জায়গায় তিন জন করে মোট ছ’জন ফুড সেফটি অফিসার এবং দু’জন ফুড অ্যানালিস্ট নিযুক্ত করেছে পুরসভা। দু’টি ভ্রাম্যমান ল্যাবরেটরি রয়েছে দু’জায়গায়। যে কোনও পেটির প্যাকেট থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। খারাপ কিছু ধরা পড়লে পুরো পেটিই বাতিল করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি আসছে। গজা কিংবা প্যাঁড়ায় কোনও খারাপ রং ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটা দেখে নেওয়া আবশ্যক।’ পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, বিষয়টি যেহেতু স্পর্শকাতর, তাই কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় রাজ্য সরকার। তাই প্রসাদের গুণমান নিয়ে কোনও আপসের পথে যেতে রাজি নয় তারা। তবে এই ক’দিনে একটিও ‘খারাপ’ নমুনা ধরা পড়েনি বলেই খবর পুরসভা সূত্রে।