Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

সত্যিই কি সহজে ব্যবসা করছে ছোটো শিল্প? যাচাই করবে ক্যাগ

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এমএসএমই অর্থাৎ ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের জুড়ি নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার সেই কথা বলে এসেছেন।

সত্যিই কি সহজে ব্যবসা করছে ছোটো শিল্প? যাচাই করবে ক্যাগ
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এমএসএমই অর্থাৎ ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের জুড়ি নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার সেই কথা বলে এসেছেন। পাশাপাশি দাবি করে এসেছেন, তাঁর সরকার এই শিল্পের জন্য হরেক পদক্ষেপ করেছে। পুঁজি জোগাড়, কম সুদে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম শিথিল করা—এমএসএমইর পাশে দাঁড়াতে সব দিক থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু সরকারের এই সব পদক্ষেপ কি আদৌ তৃণমূল স্তর পর্যন্ত নেমেছে? সত্যিই কি সরকারি সুবিধা ভোগ করছে দেশের লক্ষ লক্ষ ছোটো শিল্প? এবার মাঠে নেমে সরেজমিনে তা পরখ করবে ‘কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অব ইন্ডিয়া’ বা ক্যাগ। দেশজুড়ে এই সংক্রান্ত অডিট শুরু করতে চলেছে তারা। তার সমন্বয় তথা নেতৃত্বের ভার রয়েছে বাংলার উপর।

Advertisement

ক্যাগের প্রাথমিক কাজ মূলত আর্থিক শৃঙ্খলা যাচাই করা। সরকার বা সরকারি সংস্থায় কোনও আর্থিক অনিয়ম হচ্ছে কি না, কোনও নিয়ম বহির্ভূত কাজ হচ্ছে কি না, সেসব দেখাই ছিল ক্যাগের প্রধান কাজ। চলতি বছরের গোড়ার দিকে ক্যাগ কর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, এই চিরাচরিত কর্মপদ্ধতির বাইরে বেরতে হবে। সরকার যদি কোনও সংস্কারের পথে হাঁটে, যদি কোনও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ করা হয়, তা বাস্তবে কতটা কাজে আসছে, সেই দিকগুলি খতিয়ে দেখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে ক্যাগ। মোদ্দা কথা, যে উদ্দেশ্য নিয়ে সরকারি পরিষেবা বা সংস্কার হয়েছে, সাধারণ মানুষ আদৌ তার সুফল পাচ্ছে তো? সেটাই খতিয়ে দেখতে চায় তারা। ছোটো শিল্পের জন্য যেসব প্রশাসনিক সংস্কার করা হয়েছে, বাস্তবে তার ফল কতটা মিলছে, তারও অডিট করা হবে বলে জানিয়েছে এই নিরীক্ষক সংস্থা।
বিনিয়োগ টানতে কোন দেশ কতটা দক্ষ বা আন্তরিক, তা বোঝা যায় সেই দেশের ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা কতটা কম, তার উপর। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, যেসব দেশ তাদের ব্যবসা সংক্রাম্ত লাল ফিতের ফাঁস যতটা আলগা করবে, সেই দেশকে তারা তত বেশি লগ্নিবান্ধব হিসেবে তুলে ধরবে। র‌্যাঙ্কিংয়ে ঠাঁই হবে উপরের দিকে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি তালিকাও প্রকাশ করবে তারা। এই প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছে ভারত। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে, সরকারি দপ্তর ধরে ধরে তার তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। সংস্কারগুলি সম্পন্ন করার ভার রয়েছে রাজ্যগুলির উপরও। একযোগে এই কাজে অংশ নিয়েছে প্রতিটি রাজ্য। ফলও মিলেছে হাতেনাতে। ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাংকের তালিকায় উপরের দিকে উঠে আসছে ভারত।
ক্যাগের বক্তব্য, প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলি ছোটো শিল্পের ক্ষেত্রে আদৌ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা দেখা জরুরি। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল মণীশ কুমারকে সমন্বয় সাধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা থেকেই ৩২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অডিটে নেতৃত্ব দেওয়া হবে। অডিট হবে কোন পথে, সেই বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হবে বিভিন্ন বণিকসভা ও শিল্প উপদেষ্টা বিভিন্ন সংস্থার। কেন্দ্রের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও এই বিষয়ে সরাসরি অংশ নেবে বলে জানিয়েছে ক্যাগ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ