


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সবথেকে বেশি আশা ছিল এই ১৫২ আসনকে ঘিরেই। কারণ প্রথম দফায় যে কেন্দ্রগুলিতে ভোট হয়েছে, সংখ্যা ও প্রভাবে এই কেন্দ্রগুলির অনেকাংশেই বিজেপি শক্তিশালী হিসাবে পরিচিত। আসনসংখ্যাও সেকথা বলে। সুতরাং সেই শক্তি আরও বৃদ্ধি করে এবার মোট আসনসংখ্যা প্রথম দফাতেই বাড়িয়ে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিজেপি। সেরকমই আভাস ও রিপোর্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দেওয়া হয়েছিল। এসআইআরের জেরে এবার যে প্রদত্ত ভোটের হার বেড়ে যাবে, সেই আন্দাজ বিজেপি আগেই করেছে। কিন্তু দুপুর একটার মধ্যেই যখন ৬২ শতাংশ ভোট বাংলায় পড়ে যায়, তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বিজেপি এবং জাতীয় রাজনীতির অন্য দলগুলির মধ্যেও প্রবল চর্চা, জল্পনা এবং আলোচনা শুরু হয়ে যায় যে, ভোটের হার শেষ পর্যন্ত কতূদর যাবে? বিকেল পাঁচটার হিসাবে বহু কেন্দ্রে ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরপরই সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে চর্চা শুরু হয়, এত ভোট কোনদিকে যাচ্ছে? তার মধ্যেই মুম্বই থেকে শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন, বাংলায় ভোটারের থেকে নিরাপত্তারক্ষী বেশি এনে দুর্গ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। তিনি বলেন, প্রথম দফার ভোটের গতিপ্রকৃতি থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয় নিশ্চিত করে ফেলেছেন। তাঁর জয় নিয়ে আর সংশয় নেই। বিজেপির অন্দরে যদিও একটি আশার বার্তা গুনগুন করছে যে, এই বিপুল ভোটের হার সরকার বিরোধী হতে চলেছে, কিন্তু দলেরই অন্য পক্ষ সংশয় প্রকাশ করছে। বিহারে এসআইআরের পর ভোটের হার বেড়েছিল। সরকার কিন্তু বদলায়নি। মুখে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও টেনশনে বিজেপি নেতারা। এই রেকর্ড সংখ্যক ভেটদান, এসআইআরের বিরুদ্ধে নয় তো! নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ, দুজনেই ভোটের দিন বাংলায় ছিলেন। আর তাই দিল্লির বিজেপি সদর দপ্তর ছিল অপেক্ষাকৃত অনেক নিশ্চিন্ত। কিন্তু সারাদিন ধরে ভোটদানের গতিপথ দেখে এবং কয়েক দফায় বাংলা থেকে লাগাতার রিপোর্ট আসার পরও উচ্ছ্বসিত হতে পারেনি বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বরং সতর্ক ও কিছুটা সংশয়ী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তাঁরা। একশো শতাংশ বিজেপি ভোটারদের বুথে আনা গিয়েছে তো? এই প্রশ্ন সারাদিন ধরেই করেছে বাংলা ইউনিটকে। কিন্তু ওই প্রশ্নের যথেষ্ট আশ্বাসজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।