Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার কি আলিরেজা আরাফি?

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি

ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার কি আলিরেজা আরাফি?
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৩
Prefer us on Google

তেহরান: আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি। সর্বোচ্চ নেতাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে  ইরানের একাংশ। এমনকি দেশবাসীর সামনে খামেনেইর মৃত্যু সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন কেঁদে ফেলেছেন কয়েকজন টেলিভিশন সঞ্চালক।  খামেনেই হীন ইরানে শাসক কে? কে বলবে শেষকথা? এনিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এরইমাঝে উঠে এসেছে এক নতুন নাম। আলিরেজা আরাফি। বর্তমানে ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সেদেশের সংবিধানের ১১১ নং অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে একটি তিন সদস্যের অস্থায়ী লিডারশিপ কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। আর সেই কাউন্সিলে আলিরেজা আরাফিকে জ‌ুরি মেম্বার হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। একাংশের মতে, এই মুহূর্তে ইরানের প্রবীণ মৌলবী তিনি। দেশের একাধিক বড়ো পদও সামলেছেন। এককথায় দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মাথা আরাফি। তাই খামেনেইর পর আরাফির সর্বোচ্চ নেতার পদে বসার সম্ভাবনা প্রবল। 

Advertisement

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী স্থায়ী শাসক অর্থাৎ খামেনেইর যোগ্য উত্তরসূরি না আসা পর্যন্ত এই লিডারশিপ কাউন্সিল যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে। ‘সুপ্রিম লিডারে’র ভূমিকা নেবে। কাউন্সিলে থাকবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বিচারবিভাগের প্রধান ও ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত এক মৌলবি তথা আইনবিদ। সেইসূত্রেই গার্ডিয়ান কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আরাফি। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের বাকি দুই সদস্য হলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই।
কে এই আলিরেজা আরাফি? ১৯৫৯ সালে ইরানের মেবদ শহরে জন্ম। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক রেভলিউশনের সময় তাঁর বাবা মহম্মদ ইব্রাহিম আল-আরাফি ইরানের প্রথম সুপ্রিম লিডার খোমেইনির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছেলেও সেই পথে পা বাড়ায়। বর্তমানে  ইরানের ধর্মীয় জগতে অন্যতম বড়ো নাম আরাফি। এই জরুরি নিযুক্তির আগে তিনি দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত ছিলেন। ছিলেন ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ডিরেক্টর। একইসঙ্গে গার্ডিয়ান কাউন্সিল ও অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের বড়ো দায়িত্ব সামলেছেন। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ইসলামিক গার্ডস ও রাজনীতিকদের কাছে আরাফি যথেষ্ট বিশ্বস্ত প্রতিনিধি। ইরানের শীর্ষস্তরের নেতাদের দৃঢ় বিশ্বাস, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আচমকা বেঁকে বসবেন না আরাফি। কোনো ভুল সিদ্ধান্তও নেবেন না। এই জন্যই তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ