কাঠমাণ্ডু: চোখ, মুখ, গোটা শরীরে কাদাজল মাখা। অল্পবিস্তর আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। উদ্ধারকারীর কাঁধে চেপে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছেন একজন। অন্যজন স্ট্রেচারে শুয়ে তখনও ঈশ্বরের নাম জপছেন। সত্যি তো, রাখে হরি মারে কে! ন’দিন লড়াইয়ের পর ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সূর্যের আলো দেখলেন দুই কর্মী। নেপাল বিপর্যয়ের দশম দিন অর্থাৎ শুক্রবারের সকালে এমনই মিরাকলের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় শাহ (মেকানিক্যাল ফোরম্যান) ও কবীর মহার্জন (মেকানিক্যাল সুপারভাইজার)। বর্তমানে দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুড়ঙ্গ থেকে আরও কয়েকজনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বলে খবর। তাঁদের সন্ধানে জারি উদ্ধার অভিযান।
চোখে-মুখে আতঙ্ক। মেডিকেল টিমের সঙ্গে কথা বলার সময় সঞ্জয় বলেন, ‘হড়পা বানের দিন কন্ট্রোল রুমে ছিলাম। আচমকা চিৎকার আর হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ঠিক করি, আগে সবাইকে বের করে তারপর বেরব। সবাইকে দৌড়তে বলেছিলাম। এসব করতে গিয়েই সময় ফুরিয়ে যায়। আমি আটকে পড়ি। ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে সুড়ঙ্গের মুখ।’ নেপালের সাপতারি জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় আরও জানান, ‘ন’দিন ধরে সারাক্ষণ হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেছি। বেঁচে ফিরব ভাবতে পারিনি।’ স্বামীকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা কবীর মহার্জনের স্ত্রীও।
মাটির নীচে ওই পাওয়ার হাউসে অস্থায়ীভাবে থাকার বন্দোবস্ত ছিল। খাবার-জল মজুত করার জন্য ছোটো ছোটো ঘর ছিল। আর সেটাই প্রাণ বাঁচিয়েছে আটকে পড়া কর্মীদের। কারণ, এই জায়গাগুলির একাংশে কাদা-জল ঢুকতে পারেনি। এমনকি অল্পবিস্তর ফাঁকফোকর দিয়ে অক্সিজেনও ঢুকছিল। কোনোরকমে ন’দিন কেটে যায়। উদ্ধারকার্য নিয়ে উচ্ছ্বসিত সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ আরনল্ড ডিক্স। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের মতো এবারও নেপালে উদ্ধারকাজের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘অভূতপূর্ব সাফল্য। বিশ্ব আগে এমন ঘটনার সাক্ষী হয়নি।’ ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখনও ৪০ জন নিখোঁজ। পাশাপাশি, দেশের অন্তত ছ’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিকের হদিশ মেলেনি। আশা ক্ষীণ। তবুও প্রতিকূল আবহাওয়ায় পাহাড় প্রমাণ ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জারি রয়েছে প্রাণের সন্ধান।