Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুইডের ছাড়পত্র ছাড়াই জল তোলার অনুমতি, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সংযোগ দিলেই জলসেচ করা যাবে

সুইডের ছাড়পত্র ছাড়াই জল তোলার অনুমতি, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সংযোগ দিলেই জলসেচ করা যাবে
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১৩:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এতদিন ভূগর্ভস্থ জল তুলতে গেলে ‘সুইড’-এর অনুমতির দরকার হতো।‌ কিন্তু এবার থেকে বিদ্যুৎ দপ্তরের ছাড়পত্র থাকলেই সেচের জল ভূগর্ভ থেকে তুলতে পারবেন চাষিরা। সম্প্রতি স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে চাষিদের কাছেও খুশির খবর। কারণ এতদিন ভূগর্ভ থেকে জল তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। তাতে এবার কিছুটা হলেও শীথিলতা আনা হয়েছে। নদীয়া জেলার চাষিদের স্বার্থে কৃষি স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমস্ত দিক বিচার বিবেচনা করে তবেই জলসেচ করার জন্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা বিদ্যুতের সংযোগ দেবে। এর ফলে চাষিদের চাষের কাজে জলের চাহিদা অনেকটাই মিটবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

নদীয়া জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন জায়গাতেই মাটির নীচ থেকে জল তোলা অব্যাহত রয়েছে।‌ কিন্তু চাষিদের ক্ষেত্রে তার অনুমতি নেই। তাই জলসেচের জন্য নতুন মোটরগুলোতে বিদ্যুতের সংযোগ যাতে দেওয়া হয় সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছিল।‌ স্থায়ী সমিতির বৈঠকে সেই বিদ্যুতে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত নদীয়া জেলায় ভূগর্ভস্থ জল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে নদীয়া জেলায় ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণ তলানিতে এসে ঠেকেছে। যার ফলে পরিবেশবিদরা সারফেস ওয়াটারের উপর জোর দিতে বলছেন। কেন্দ্র সরকারের রিপোর্ট বলছে, নদীয়া জেলায় মোট ১৮টি ব্লক রয়েছে।‌ জলের অপ্রতুলতার নিরিখে, যার মধ্যে ১০টি ব্লক ক্রিটিক্যাল জোনের মধ্যে পড়ে। আবার ৬টি ব্লক পড়ে সেমি ক্রিটিক্যাল জোনে। অর্থাৎ নদীয়া জেলার ১৮ ব্লকের মধ্যে ১৬টিতেই ভূগর্ভস্থ জল ‘নেই’ বললেই চলে। শুধুমাত্র নদীয়া জেলার চাকদহ এবং রানাঘাট-১ ব্লক রয়েছে বিপদসীমার বাইরে। যাদের কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে ‘সেফ জোন’ তকমা দেওয়া হয়েছে। 
তবে গতবছরের কেন্দ্র সরকারের সমীক্ষার রিপোর্ট আরও ভয়ঙ্কর। তাতে বলা হচ্ছে, নদীয়া জেলায় প্রতিবছর যে পরিমাণ জল মাটির নীচে পৌঁছচ্ছে তার ৮৫ শতাংশই তুলে নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে মাটির নীচে জল পুনরায় সঞ্চিত হওয়ার সুযোগ হচ্ছে না। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪৫২ হ্যাম (ভূর্গভস্ত জলের পরিমাপের সূচক) জল মাটির নীচে গিয়েছে। কিন্তু সারা বছর নিষ্কাশন হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৫৬২ হ্যাম। অর্থাৎ একবছরে নদীয়া জেলার ৮৫.৭১ শতাংশ জল নিষ্কাশন করা হয়েছে। 
এই পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ জল তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। যার ফলে চাষিরা সমস্যায় পড়তেন। যদিও জেলাজুড়ে মাটির নীচ থেকে জল তোলা বন্ধ ছিল না। চাষের জন্য জল তুলতে চাইলে কেউ আবেদন করলে সুইড দপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। স্থায়ী সমিতির বৈঠকে তাতেই এবার শীথিলতা আনা হয়েছে। স্থায়ী সমিতির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সুইডের অনুমতি ছাড়াই নদীয়া জেলার কোনও চাষি সেচের জন্য আবেদন করলে বিদুৎ দপ্তর ছাড়পত্রের দিকটা প্রাধান্য দিয়ে, চাষিকে সেচের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি নদীয়া জেলার চাষিরা। চাপড়া ব্লকের মিজানুর শেখ বলেন, ‘এখন বৃষ্টি কমে গিয়েছে। চাষের জন্য জল তোলার অনুমতি নেই। চাষ করতে গিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। আমাদের সমস্যার দিকটা মাথায় রেখে নিয়মকানুনে একটু বদল আনলে উপকার হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ