Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেনিয়ম! শহরের বহু রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং বদলেছে কমার্শিয়ালে, ফিল্ড সার্ভেতে ৯০% বেশি ব্যবসায় তালা

মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর তৎপর হয়েছে প্রশাসন। ‘বেনিয়ম’ দেখলেই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই কাজ করতে গিয়েই কার্যত ‘ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়’ অবস্থা শহরের!

বেনিয়ম! শহরের বহু রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং বদলেছে কমার্শিয়ালে, ফিল্ড সার্ভেতে ৯০% বেশি ব্যবসায় তালা
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর তৎপর হয়েছে প্রশাসন। ‘বেনিয়ম’ দেখলেই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই কাজ করতে গিয়েই কার্যত ‘ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়’ অবস্থা শহরের! 

Advertisement

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার থেকে যতগুলি ক্ষেত্রে ‘ফিল্ড সার্ভে’ হয়েছে, তার ৯০ শতাংশের বেশি ব্যবসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পুরসভাকে অন্ধকারে রেখে রেসিডেন্সিয়াল অর্থাৎ বসবাসের জন্য তৈরি বাড়িকে কমার্শিয়ালি ব্যবহার করা চলছে। সেই সঙ্গে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অগ্নিসুরক্ষার প্রশ্নে গাফিলতি সামনে এসেছে। এসব কারণে বহু হোটেল, পানশালা, রেস্তরাঁয় সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘ক্লোজার’ নোটিস। 
পুরসভা সূত্রে খবর, ৩০০-র কাছাকাছি জায়গায় সার্ভে হয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশ হোটেল, গেস্ট হাউস, পানশালা, রেস্তরাঁসহ নানা ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লোজার’ নোটিস দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকছে কি না, নজর রাখছে লালবাজার। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লাগে। ৯ জনের মৃত্যু হয়। তারপর শহরের বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউসের নথিপত্র, অগ্নি নির্বাপণ পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার যৌথ টিম তৈরি হয়। পুর লাইসেন্স বিভাগ, কেএমডিএ, দমকলের আধিকারিকরাও রয়েছেন সেই যৌথ টিমে। ১৬টি বরোভিত্তিক টিম লাগাতার ফিল্ড সার্ভে চালাচ্ছে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘প্রায় সর্বত্র আবাসিক বিল্ডিংয়ের বেশিরভাগ অংশ ব্যবসার কাজে লাগানো হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের চরিত্র বদলের জন্য পুরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। কোনো নিয়ম না মেনেই সেখানে গেস্ট হাউস-হোটেল কিংবা রেস্তরাঁ চলছে। দমকলের এনওসি নেই। কিংবা ফায়ার এসটিংগুইসার থাকলেও সেগুলি কাজ করে না। ডেট ওভার। তাই ক্লোজার নোটিস দেওয়া হচ্ছে। যে খামতি রয়েছে, শর্ত মেনে সেগুলি পূরণ করে নতুনভাবে আবেদন করতে হবে ব্যবসা শুরুর জন্য। সবটা খতিয়ে দেখে ফের ব্যবসা চালুর অনুমতি দেওয়া হবে।’ যদিও, পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, পুর-আইনের ৩৯০ ২/এ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো বিল্ডিংয়ে যদি একটি ঘরও বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হয়, সেক্ষেত্রে বাড়ির বেশিরভাগ অংশ ব্যবসায়িক কাজে লাগলেও সেটি রেসিডেন্সিয়াল হিসাবেই ধরা হবে। আবার পুর আইনের ৪৩৫ এ নং ধারায় বলা হয়েছে, আবাসিক বাড়িতে যে ৪১ ধরনের ব্যবসা চালানো যায়, তার জন্য সবসময় দমকলের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। তাহলে কীভাবে রেসিডেন্সিয়াল বাড়িকে কর্মাশিয়াল হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? দমকলের অনুমোদন না থাকলে যে কোনো ব্যবসাই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কীভাবে, উঠছে সেই প্রশ্নও। এসব ফাঁক পূরণ করতে আইন সংশোধন জরুরি বলে মনে করছেন ওই পুরকর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ