নয়াদিল্লি: নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস নিয়ে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। যার জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার নিট পিজি পরীক্ষার আয়োজনে সামনে চলে এল পরিকাঠামোগত ত্রুটি। রবিবার সারা দেশের ১ হাজার ১১১টি কেন্দ্রে নিট পিজি পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় বসেছিলেন ২ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া। পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্বে ছিল ন্যাশনাল বোর্ড অব এগজামিনেশনস ইন মেডিকেল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস)। তাদের টেকনোলজিক্যাল পার্টনার টিসিএস লিমিটেড। পরীক্ষা চলাকালীন রাজস্থানের জয়পুরের দু’টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দেয়। এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই তড়িঘড়ি ওই দুই কেন্দ্রে নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এনবিইএমএস জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টের সময় জয়পুরে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। কেবল ওই দুই পরীক্ষাকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়ারাই দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। জানা গিয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে প্রায় ২ হাজার ২২৫ জন পড়ুয়া ছিলেন।
পরীক্ষা গ্রহণে এই বিভ্রাট সামনে আসতেই মোদি সরকারকে নিশানা করেছে কংগ্রস। দলের এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, ‘মোদি সরকারের বেহাল ব্যবস্থার জেরে পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারগুলি ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। মনে হচ্ছে সরকার যেন চাদরের নীচে ঘুমিয়ে রয়েছে। আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল, মোদি সরকার যথাযথভাবে পরীক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ। ধিক্কার।’
সূত্রের খবর, জয়পুরের সীতাপুরা এলাকার দু’টি ‘আইওন ডিজিটাল জোন’ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন কম্পিউটার সিস্টেম বারবার বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিষ্ণু শর্মা নামে এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, তাঁর সিস্টেম অন্তত ২০ বার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একই অভিযোগ আরও অনেকের। পরীক্ষা হলে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সবাই মিলে জোরে জোরে উত্তর আলোচনা করছিল বলেও অভিযোগ। এই নিয়ে বিতর্ক হতে পারে আঁচ করে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে এনবিইএমএস কর্তৃপক্ষ। টেকনোলজিক্যাল পার্টনার এবং পরিকাঠামো প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র উল্লেখ করে, নতুন অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনবিইএমএস।