নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কন্টাই পিকে কলেজে বিল্ডিং নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় থানায় হাজিরা এড়ালেন প্রিন্সিপাল অমিতকুমার দে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এদিন থানার আইসি-র উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়ে কয়েকদিন সময় চেয়েছেন অধ্যক্ষ। গত ১৭মার্চ জেলাশাসকের নির্দেশে কাঁথি মহকুমা প্রশাসন ওই ঘটনায় থানায় এফআইআর করেছে। অধ্যক্ষকে অভিযুক্ত করে বিল্ডিং নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এদিন অধ্যক্ষ থানায় হাজির হননি। কিন্তু, নোটিস পেয়ে বিকেল ৩টায় কলেজের ন’জন অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মী থানায় হাজির হয়েছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকে ২০১০সাল থেকে ২০২০সাল পর্যন্ত কলেজে গভর্নিং বডিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন। তদন্তকারী অফিসার চন্দনকুমার মাইতি মামলার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।
রবিবার কলেজের প্রিন্সিপাল অমিতকুমার দে বলেন, এদিন সকালে আমাকে থানায় যেতে বলা হয়েছিল। আমি কয়েকটা দিন সময় চেয়েছি। চিঠি লিখে সেকথা জানিয়েছি।
উল্লেখ্য, ২০১৭থেকে ২০২০সাল পর্যন্ত কাঁথি পিকে কলেজে বিল্ডিং নির্মাণে বিস্তর অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই সময়ের মধ্যে কলেজে চারতলা গার্লস হস্টেল, চারতলা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বিল্ডিং, প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি ও ক্লাসরুম এবং অধ্যাপকদের কোয়ার্টার হয়েছে। অভিযোগ, ওইসব বিল্ডিং নির্মাণের জন্য কাঁথি পুরসভা থেকে কোনও প্ল্যান পাশ করানো হয়নি। পুরসভার খাতায় ওইসব বিল্ডিং নিয়ে কোনও তথ্য নেই। বিল্ডিং নির্মাণে টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা ছিল না বলে অভিযোগ। ওইসব নির্মাণের মধ্যে দিয়ে প্রচুর সরকারি অর্থ তছরুপ হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মর্মে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় জেলাশাসকের কাছ থেকে তদন্ত রিপোর্ট চাওয়া হয়। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। তার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় এফআইআর। ২০২২ সালে ১৮ফেব্রুয়ারি কলেজে বিল্ডিং নির্মাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে প্রথম কাঁথি থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। কলেজের তৎকালীন গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট বর্তমানে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই ঘটনায় পুলিস তদন্ত শুরু করে। তারপর হাইকোর্ট সেই তদন্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। ২০২২সালে ১১আগস্ট ফের হাইকোর্ট ওই মামলায় পুলিসি তদন্তে কোনও বাধা নেই বলে রায় দেয়। পুলিসি রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই হাইকোর্ট ২০২২সালে নভেম্বর মাসে জেলাশাসককে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেয়। এরপর তমলুক থেকে অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনির্বাণ কোলের নেতৃত্বের তদন্তকারী দল দফায় দফায় কলেজে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করে। জেলাশাসক অফিস থেকে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা করা হয়। এরপর হাইকোর্ট থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ আসে। ১৭মার্চ পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী ওই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কাঁথির মহকুমা শাসককে নির্দেশ দেন। সেইমতো ওইদিন কাঁথি এসডিও অফিসের এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সামসুজ্জামান কাঁথি থানায় এফআইআর করেন। এনিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন আইনজীবী আবু সোহেল। তিনি বলেন, কাঁথি পিকে কলেজে বিল্ডিং নির্মাণের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ অর্থ নয়ছয় হয়েছে। এই ঘটনা অনেকেই জড়িত। প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। তাঁকে জেরা করলে আরও অনেকের নাম আসবে। এই ঘটনায় কারা জড়িত এবং কত পরিমাণ টাকা নয়ছয় হয়েছে সবটাই প্রকাশ্যে আসা উচিত।