সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: নিয়মিত ও ঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না শিক্ষকরা। পড়তে এসেও ফিরে যেতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। এমন অভিযোগ করে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের সাদলিচক গ্রাম পঞ্চায়েত কুমেদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিন শিক্ষকরা ১১ টার পর স্কুলে ঢোকেন। গত বুধবার কোনও শিক্ষকই স্কুলে আসেননি। তাই বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা স্কুলে ঢুকতেই তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবক সহ স্থানীয়রা। স্কুলে খাতায়কলমে প্রাক প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ২১৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। রোজ গড়ে ৭০-৮০ জন স্কুলে আসে। পাঁচজন স্থায়ী ও দু’জন প্যারাটিচার রয়েছেন। পড়ুয়াদের দাবি, প্রতিদিনই শিক্ষকরা দেরি করে স্কুলে আসেন। ঠিকমতো ক্লাস হয় না। স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রায়ই শুনতে হয়, স্যররা আসেননি। কোনও কোনও দিন কেউই আসেন না। বুধবার কোনও শিক্ষক আসেননি। মিড ডে মিলের রিপোর্টে উপস্থিত পড়ুয়ার থেকে বেশি দেখানো হয়। অভিভাবক মহম্মদ শাহ আলমের অভিযোগ,যাঁদের ভরসায় বাচ্চাদের পড়াশোনা করতে পাঠাই,তাঁরাই যদি দিনের পর দিন না আসেন, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এক প্যারাটিচারকে স্কুলে দেখাই যায় না। বহুবার বললেও তাঁরা কান দেন না। মিড ডে মিলে সরকারি মেনু অনুযায়ী খাবারও দেওয়া হয় না। অভিযোগ প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সাবিউল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন সময়মতো স্কুলে আসি। বাকি শিক্ষকদেরও বলা হয়েছে ঠিক সময় ঢুকতে। অসুস্থ ছিলাম বলে বুধবার আসিনি। দু’জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছেন। গতকাল তাঁদের মেডিক্যাল টেস্ট ছিল বলে আসেননি। বাকি শিক্ষকরা কেন হাজির ছিলেন না বলতে পারব না। সরকার মিড ডে মিলের জন্য যা টাকা দিচ্ছে, তা দিয়ে ভালো খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই মিড ডে মিল রিপোর্টে কিছু বেশি ছাত্র দেখানো হয়। হরিশ্চন্দ্রপুর সাউথ সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তারক মণ্ডলের কথায়, বহুবার অভিযোগ পেয়ে নিজে স্কুলে গিয়ে সতর্ক করেছি। তারপরেও এমন ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শো-কজ করা হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ এর বিডিও তাপস কুমার পাল অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলছেন অভিভাবকরা।