তেহরান: আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় বিধ্বস্ত ইরান। মিসাইল হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সংঘাতের জেরে তিনিও আহত হয়েছেন বলেই জল্পনা।
যাবতীয় জল্পনার মূলে ইরানের জাতীয় টিভির সাম্প্রতিক সম্প্রচার। নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবাকে ‘জানবাজ অফ রামাদান’ বা ‘রমজান যুদ্ধের জানবাজ’ বলে উল্লেখ করেছে। ‘জানবাজ’ বলতে সাধারণত যুদ্ধে আহত যোদ্ধাকে বোঝানো হয়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতকে ‘রমজান যুদ্ধ’ বলেই উল্লেখ করছে। তাই ‘রমজান যুদ্ধে আহত যোদ্ধা’ হিসাবে মোজতবাকে সম্বোধন করায়, শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও জাতীয় টিভি, সর্বোচ্চ নেতার আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে তিনি সত্যিই আহত কি না, তা স্পষ্ট নয়। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নিয়োগকে গ্রহণযোগ্য নয় বলেই দাবি করেছেন। বলেছেন, ইরানের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ট্রাম্পের কটাক্ষ, আমি বিশ্বাস করি না উনি শান্তিতে আছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে মোজতবা বেশিদিন টিকতে পারবেন না, এই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। বিষয়টা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি ইরান। মঙ্গলবার ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পালটা হুমকি দিয়েছেন। লিখেছেন, ‘আপনার চেয়ে বড় কেউ এলেও ইরানকে নির্মূল করতে পারবে না।’ এখনও পর্যন্ত মোজতবা খামেনেই প্রকাশ্যে আসেননি। কোনো বক্তব্যও দেননি। এই আড়ালে থাকাই তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জল্পনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।